Main Menu

আদালতে ফয়জুলের ভাই এনামুলের স্বীকারোক্তি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুল হাসান ওরফে শফিকুরের ভাই এনামুল হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ৮ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করেন। এরপর সে আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফয়জুল হাসান জঙ্গিবাদে জড়িত তা আগে থেকেই জানতো তার পরিবারের সদস্যরা। এমনকি তাকে সমর্থন যুগিয়েছিলেন তার বড় ভাই এনামুল হাসান।
ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাতে তথ্য উপাত্ত না পায় এজন্য কম্পিউটারের মনিটর, সিপিইউ, মেমোরি কার্ড এবং যাবতীয় তথ্যসহ বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যায় এনামুল।
মঙ্গলবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আদালতে এসব তথ্য জানায় হামলাকারী ফয়জুলের বড় ভাই এনামুল হাসান। এদিন বিকেল সোয়া ৪টায় জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার। প্রায় ৩ ঘণ্টা আদালতে জবানবন্দি দেয় এনামুল।
গত ৯ মার্চ এনামুলকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট(সিটিটিসি)-এর সদস্যরা। পরদিন তাকে জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৩ মার্চ থেকে তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ শনিবার বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুল (২৫)। হামলার পরপরই ফয়জুলকে ধরে ফেলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পরে র‌্যাব তাকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জাফর ইকবালকে প্রথমে নেওয়া হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে রাতেই তাকে পাঠানো হয় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

এ ঘটনায় ফয়জুলসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে পরদিন সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পরে গত বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) আদালতে হাজির করে ফয়জুলের ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুর রহমান। আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার ১০ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে গত ১১ মার্চ মামলার তদন্তের স্বার্থে হামলাকারী ফয়জুল হাসানের বাবা মাওলানা আতিকুর রহমানকে ৫ দিনের, মা মিনারা বেগমকে ২ দিনের ও মামা ফজলুর রহমানকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
পরে ১৩ মার্চ এনামুলকে সিলেটের মহানগর হাকিম-৩ আদালতে হাজির করে ৮ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Share





Related News

Comments are Closed