বিশ্বনাথে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব পালিত
মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে : সিলেটের বিশ্বনাথের বিপুল উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব পালিত হয়েছে। রোববার উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বড় বিলে ওই পলো বাওয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহন করেন গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ। সৌখিন শিকারীরা পলো দিয়ে মাছ ধরেছেন অনেকেই মাছের মধ্যে ছিল বোয়াল, শউল, মিরকা, কারপু, বাউশ, ঘনিয়া, রউ’সহ বিভিন্ন জাতের মাছ। তবে এ বছর বিলে অধিক পানি ও কচুরিপানা থাকায় খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে অনেককেই।
গোয়াহরি গ্রামের ঐহিত্য অনুযায়ী প্রতি বছরের মাঘ মাসের পহেলা তারিখ এই পলো বাওয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পলো বাওয়া উৎসবকে কেন্দ্র করে গোয়াহরি গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে উৎসবের আমেজ রিবাজ করছিল। এই উৎসব ১৫ মাঘ পর্যন্ত চলবে। পলো বাওয়া এই উৎসবে অংশ নিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে গোয়াহরি গ্রামের সৌখিন মানুষ বিলের পারে এসে জমায়েত হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিলের পারে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। পূর্ব নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ১১টায় সবাই এক সঙ্গে বিলে নেমে শুরু করেন পলো বাওয়া। শুরু হয় ঝপ ঝপ পলো বাওয়া। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এ পলো বাওয়া উৎসবে গোয়াহরি গ্রামের সব বয়সী পুরুয় অংশ নেন।
সরেজমিনে গোয়াহরি বিলে গিয়ে দেখা যায়, মাছ শিকার করতে নিজ নিজ পলো নিয়ে বিলের ওপর ঝাপিয়ে পড়েন লোকজন। যাদের পলো নেই তারা মাছ ধরার ছোট ছোট বিভিন্ন জাল নিয়ে মাছ শিখারে ব্যস্ত সময় কাটান। এসময় মাছ ধরার এ দৃশ্যটি উপভোগ করতে বিলের পারে ছোট ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের পুরুষ-মহিলা, দূর থেকে আসা অনেকের আত্বীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ছেলে বুড়ো মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক লোক পলো বাওয়া উৎসবে অংশগ্রহন করেন। বিল থেকে অন্যান্য বছরের তুলনায় মাছ শিকার হয়েছে কম। মাছ শিকার করেছে এমন কয়েকজন হলেন-প্রবাসী তৈমুছ আলী, শাহ জালাল নুরুল হুদা, আবদুল কাইয়ুম, রহমত উল্লা।
গোয়াহরি গ্রামের আবদুল আহাদ বলেন, পলো বাওয়া উৎসব আমাদের গ্রামের একটি ঐতিহ্য। আমাদের গ্রামবাসী যুগ যুগ ধরে এই উৎসব পালন করে আসছেন।
একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম কয়েস বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সুন্দরের জন্য প্রতি বছর পলো বাওয়া উৎসব পালন করি। উৎসবে আমাদের গ্রামের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরাও দেশে এসে অংশ গ্রহন করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, যুগ যুগ ধরে এ উৎসব অব্যাহত আছে, আগামীতেও থাকবে।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী তৈমুছ আলী বলেন, আমি পলো বাওয়ায় অংশগ্রহন করতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছি। পলো দিয়ে মাছ শিকার একটি মজার বিষয়।
শিক্ষক গোয়াহরি গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি শহরে বসবাস করি। পলো বাওয়া উৎসবে অংশগ্রহনের জন্য আমি আজ স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছি। একটি বোয়াল মাছ শিকার করে আমার খুব ভাল লাগছে।
Related News
পাখির কলকাকলিতে মুখর নাজিরপাড়া, ১৫ বছর ধরে অতিথিদের মিলনমেলা
মো. সফিকুল আলম দোলন, জেলা প্রতিনিধি,পঞ্চগড়: ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পাখিদের কিচিরমিচির। গাছের ডালেRead More
ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন ৮শ বছরের পুরাতন সেতু
শাহ মনসুর আলী নোমান, লন্ডন থেকে: ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টির উইকলার (Wycoller )গ্রামেRead More



Comments are Closed