Main Menu

একুশ সালে কোনো ঘরে অন্ধকার থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে কোনো ঘরে অন্ধকার থাকবে না। প্রত্যেকটি ঘর আলোকিত হবে। যেখানে বিদ্যুতের গ্রিড লাইন পৌঁছতে পারছে না সেসব স্থানে সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রায় তিন বছর পর রোববার যশোরে জনসভায় বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৬ হাজার ৮শ’ মেগাওয়াট করতে সক্ষম হয়েছে।

শেখ হাসিনা আজ বিকেলে ঈদগাহ্ মাঠে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশকে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। অতীতে নৌকায় যেমন ভোট দিয়েছেন, তেমনি এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।

কারণ, আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম করেছে। আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে। বিজয়ী জাতি হিসেবে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের কাছে অনুরোধ যেভাবে অতীতে নৌকায় ভোটি দিয়েছেন সেইভাবে নৌকায় ভোট দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন, আমি সেটাই চাই। আমরা অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে নৌকায় ভোট প্রদানের কথা জানতে চাইলে সকলে সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে ওঠেন। এজন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী একটি বাংলা প্রবাদের উল্লেখ করে বলেন, ভুতের পা নাকি পেছন দিকে চলে। বিএনপি অদ্ভুত হয়ে ক্ষমতায় আসে এবং ভুতের মত দেশ চালায় বলেই দেশ পেছন দিকে চলে যায়।

তিনি উদাহারণ দেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় পূববর্তী বিএনপি সরকারের কাছ থেকে বিদ্যুৎ পেয়েছিলেন মাত্র ১৬শ’ মেগাওয়াট। আর ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তার সরকার বিদ্যুৎ রেখে যায় ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট। কিন্তুু ২০০৯ সালে যখন তিনি আবার যখন ক্ষমতায় আসেন তখন বিদ্যুতের উৎপাদন তো বাড়েইনি বরং কমে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী এ দিন যশোরে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আগামীকাল সারাদেশে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও ‘বই উৎসবে’র প্রসংগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রাইমারিতে ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে। যে টাকা সরাসরি তাদের মায়েদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি পিএচডি লেভেল পর্যন্ত বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট করে তার সরকার বৃত্তি দিচ্ছে যাতে করে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ভালভাবে লেখাপড়া করতে পারে।

প্রত্যেকটি মানুষকে উন্নত জীবন দেয়াই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জের মানুষ যেন সবরকম নাগরিক সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে তাঁর সরকার।

তিনি এ সময় আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে এবং সিঙ্গাপুরের কোর্টে বেগম জিয়ার দুই ছেলের মানি লন্ডারিং প্রমাণিত হওয়ায় এবং বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির প্রসঙ্গে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আপনারা একবার চিন্তা করুন আমাদের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির অভিযোগ দিয়েছিল ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, তখন আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, কোনো দুর্নীতি করি নাই, কোনো দুর্নীতি হয় নাই। কিন্তুু খালেদা জিয়া কি পেরেছে তার বা তার সন্তানের অর্থ অত্মস্যাৎ বা মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে? পারেনি।

যারা মানি লন্ডারিং করে, যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, লুটপাট করে, দুর্নীতি করে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, তারা আবার কোন মুখে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে।

Share





Related News

Comments are Closed