Main Menu

জয়পুরহাটের চাষীদের বন্যার দুঃখ ভুলিয়েছে আগাম সবজি

মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট, প্রতিনিধি: দুই দফা বন্যা উত্তরবঙ্গের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি করে গিয়েছিল। বাদ যায়নি জয়পুরহাট জেলার কৃষকরাও। কিন্তু বন্যার পানি সঙ্গে করে যে পলি বয়ে এনেছিল, এখন তার সুফল পাচ্ছেন তারা। আগাম শীতের সবজিতে ঝলমল করছে তাদের জমি। জয়পুরহাটের বাজারগুলোয় এরই মধ্যে শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। ফুলকপি, মুলা, শিমসহ নানা সবজিতে ভরে গেছে জয়পুরহাটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার নতুনহাট। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। দুবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মুখ থেকে মিলিয়ে গেছে হতাশার ছাপ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৮৭ হেক্টরে বেগুন, ৪৩২ হেক্টরে মরিচ, ১০৫ হেক্টরে তিল, ১০ হেক্টরে বরবটি, ৮০ হেক্টরে ঝিঙা, ৪০ হেক্টরে কাঁকরোল, ৫৫ হেক্টরে চিচিঙ্গা, ১৭৫ হেক্টরে চাল কুমড়া, ৩৮০ হেক্টরে কুমড়া, ২৪০ হেক্টরে ডাঁটাশাক, ২২৫ হেক্টরে পুঁইশাক, ২৮০ হেক্টরে লালশাক, ৮৫ হেক্টরে কলমিশাক, ২৬৫ হেক্টরে শসা, ১৬ হেক্টরে ফুলকপি, ১২ হেক্টরে বাঁধাকপি, ৪০ হেক্টরে মুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লতিরাজ কচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমি। সব মিলে এবার সবজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৪০ টন। আক্কেলপুর উপজেলার শন্তা গ্রামের কৃষক হান্নান মণ্ডল দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। দাম ভালো পাওয়ায় তিনি খুব খুশি।
পূর্ব পারুলিয়া গ্রামে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এবার ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হয়েছে। আগে থেকেই এটি সবজি গ্রাম নামে পরিচিত।
সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি ছাড়িয়ে গেছে।
জেলার বৃহত্তম পাইকারি সবজি বাজার নতুনহাটে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ ও মুলা ৪০ টাকা; কাঁকরোল ৪০, ঢেঁড়স ৪৫, বরবটি ৬০, লতিরাজ কচু ৩৫ টাকা; পটোল ৩৫, বেগুন ৬০ ও করলা ৪০ টাকা কেজি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুধেন্দ্র নাথ বলেন, জয়পুরহাটের কৃষকরা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এখানকার সবজির চাহিদা সারা দেশেই। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে সবজি নিয়ে যান।

Share





Related News

Comments are Closed