Main Menu

নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক এনার্জি ড্রিংকসে সয়লাব রাজশাহীর বাজার

হাবিব জুয়েল, রাজশাহী থেকে : ‘যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর’ বোতলের গায়ে লেখা এমন নানা কার্যকারিতার কথা। যা বিক্রিতে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে না। বরং হরহামেশাই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কোমল পানীয়র আড়ালে এসব যৌন উত্তেজক ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর পণ্য।
তবে এগুলো ওষুধ হিসেবে নয়, কোমল পানীয় হিসেবেই পান করছে রাজশাহী শহরের উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা। চাহিদাও বাড়ছে দিনদিন। তাই এক ব্যবসায়ীর দেখাদেখি অন্যরাও লাভের লোভে বিক্রি শুরু করেছেন। যা বর্তমানে শহরের দোকানে দোকানে সয়লাব হয়ে গেছে। সরকার এগুলো বিক্রি বন্ধ করে দিলেও আবার নাম পাল্টে এসব উত্তেজক পানীয় নতুন নামে বিক্রি হয়ে আসছে বাজারে।
কিন্তু যারা এসব পানীয় পান করছে তাদের কেউই জানে না তারা আসলে কী পান করছে। বোতলের গায়ে শক্তিবর্ধক লেখা দেখেই তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এসব পণ্যের ওপর। যেগুলোর একটিরও নেই সরকারি কোনো অনুমোদন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাজারে থাকা ৪৮টি এনার্জি ড্রিংকস পরীক্ষা করে ১৮টিতে ভায়াগ্রার উপাদান পেয়েছে। এর মধ্যে ১২টিতে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং ৪টিতে মাত্রাতিরিক্ত এলকোহল পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পান করলে মানুষের হৃদরোগসহ কিডনী, ডায়াবেটিসজনিত রোগের ঝুঁকি রয়েছে ।
রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পান-সিগারেট, মুদির ও কনফেকশনারির দোকানগুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির যৌন উত্তেজক ড্রিংকস। সন্ধ্যা হলেই এসব ড্রিংকস পান করতে দোকানে ভিড় জমায় যুবক থেকে মধ্য বয়সীরা। বেশ কিছু পণ্যের মধ্যে অ্যালকোহলের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকায় মোড়কের গায়ে রয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর লোগো। যা অনুমোদিত। কিন্তু এসব পানীয়র বাইরে হারবাল উপাদান দিয়ে তৈরি অতিমাত্রায় অ্যালকোহল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে ‘শক্তি বর্ধক’ বলে প্রচার দিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে বেশ কিছু পানীয়।

নগরীর জিরো পয়েন্টের একজন দোকানদার জানান, বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তুতকৃত যৌন উত্তেজক ড্রিংকসের মধ্যে ডাবল হর্স, হর্স পাওয়ার, ম্যান পাওয়ার, পাওয়ার ম্যান, তৃপ্তি পাওয়ার, মাশরুম, ফানটুস, কস্তুরি হারবাল সিরাপ, নাইট পাওয়ার উল্লেখযোগ্য।

নগরীর রেলস্টেশন এলাকায় ‘শক্তিবর্ধক’ পানীয় পান করা অবস্থায় জাহান আলী নামের এক তরুণ জানায়, ‘আমি মাঝে মাঝে খাই, খাইলে খুব গরম লাগে। মনে হয়, ভালোই শক্তি পেয়েছি। তবে, এগুলো খেতে তিতা লাগে, কান গরম হয়ে যায়।’স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো না খারাপ তা জেনে খাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, ‘বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই যখন এগুলো পাওয়া যায়, তাইলে জিনিস তো ভালোই মনে হয়, এগুলোতে অনুমোদন না থাকলে বাজারে আসে কি করে? আর আসলেও যদি এসব পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে যারা আছে তারা এগুলো বিক্রিতে বাধা দিচ্ছে না কেন?’ সে একা পান করে না, শহরের অনেক ছেলে-মেয়েরাই এসব পানীয় পান করে বলে জানায় ওই তরুণ।

সিভিল সার্জন সঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, শহরের বিভিন্ন দোকানে ‘শক্তিবর্ধক’ বলে বিক্রিত এসব পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, এগুলো পান করলে লিভার ও কিডনি যে কোনো সময় কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। তরুণ-তরুণীদের এসব পানীয় থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। কেননা, এসব পানীয় পান করার ফলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

Share





Related News

Comments are Closed