Main Menu

তামাবিল স্থল বন্দরের উদ্বোধন শুক্রবার

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: : সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তের তামাবিল স্থলবন্দরের উদ্ধোধন আগামীকাল শুক্রবার। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের লাগাতর কাজের মধ্য দিয়ে এ স্থলবন্দরটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ৮ মে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থল বন্দরটির নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।
ভূমি ও স্থল বন্দরের সার্বিক উন্নয়নসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬৯ কোটি ২৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
আগামিকাল শুক্রবার তা উদ্ধোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি।
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ এমপি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করবেন বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।
স্থল বন্দরটি চালু হওয়ার পর ভারতের মেঘালয়সহ ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, আসাম ও ভূটানের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। একই সাথে সরকার প্রতি বছর এই স্থল বন্দর থেকে শত কোটি টাকারও অধিক রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিমত প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ী এবং শিল্প কারখানার সাথে বাণিজ্যিক সু-সম্পর্ক বৃদ্ধি সহ উভয় দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশ জোরদার হবে। ২৩.৭২ একর ভূমিতে অধিগ্রহণ সহ ৬৯ কোটি টাকা ব্যয় সম্প্রসারিত তামাবিল স্থলবন্দর উন্নয়ণ প্রকল্পে রয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ, সীমানা প্রাচীর, সিসি ইয়ার্ড, পাওয়ার হাউজ, ১০০ কেবি জেনারেটর, দুইটি ওয়েব্রিজ স্কেল পণ্যাগার শেড, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টয়লেট, গোসল খানা। এছাড়া প্রস্তাবিত উক্ত প্রকল্পে রয়েছে, কর্মকর্তা/কর্মচারী আবাসিক ভবন, পুলিশ ব্যারাক ও নিজস্ব অফিস ভবন। বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উক্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ জানান, সরকারের গৃহিত উন্নয়ন প্রকল্পের শতভাগ কাজ বাস্তবায়িত হওয়ায় ২৭ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১১টায় সরকারের উক্ত মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এই স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ স্থল বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সাথে অত্রাঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয়রা উপকারভোগী হবে। গৃহিত উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বারা আধুনিক স্থলবন্দর হিসাবে তামাবিলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানকার ব্যবসায়ীক পরিবেশ আরোও এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব খাত আরোও সুদৃঢ় হবে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সাথে ব্যবসায়ীরা তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে সহজে ব্যবসা করতে পারবেন। স্থলবন্দর উন্নয়নে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সিলেটর ৪ আসনের সাংসদ সদস্য ইমরান আহমদকে অভিনন্দন জানান।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ এমপি জানান, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় তামাবিল কে একটি আধুনিক স্থলবন্দর হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। সরকার দেশের ব্যবসায়ীক পরিবেশ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান কে তরান্বিত করতে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি আধুনিক ও দরিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তামাবিল স্থলবন্দরই নয়, তামাবিলের পাশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। তামাবিল স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি অত্রাঞ্চলের ব্যবসায়িক পরিবেশ অগ্রগামী হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

Share





Related News

Comments are Closed