Main Menu

ওসমানীনগরে কবরস্থান দখলে নিতে মরিয়া প্রভাবশালী মহল

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে এক শিক্ষক পরিবারের কবরস্থানের ভূমি দখলে নিতে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উপজেলার নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের মৃত মাস্টার মো. আব্দুর রবের পুত্র শিক্ষক মো. গোলাম আজম। তিনি প্রভাবশালী মহল কর্তৃক দখলকৃত তাদের পৈত্রিক ভূমি উদ্ধার ও কবরস্থানের ভূমি দখল পাঁয়তারা বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গোলাম আজম বলেন, ‘তিনি হাজিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার ভাই ও বোন শিক্ষকতা করছেন। তার পিতা আব্দুর রবও শিক্ষক ছিলেন। তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের কোনো থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিলনা। সম্প্রতি ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা গ্রামের গৌছ মিয়ায় পরিবার কর্তৃক পৈত্রিক ভূমি দখল, কবরস্থান দখলের পায়ঁতারা ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ উপজেলার নিজ বুরুঙ্গা মৌজার জেএল নং ৬৯, খতিয়ান নং ৯৯৯, দাগ নং ২১২৮-এ তার পিতা আব্দুর রবের নামে এক কেদার ভূমি, যা পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে রয়েছে। কিছুদিন আগে পারিবারিক এ কবরস্থানে বাঁশের বেড়া স্থাপন, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করা হয়। কিন্তু একই গ্রামের মৃত গৌছ মিয়ার স্ত্রী ও তার ভাই মাখন মিয়াসহ তাদের আত্মীয় স্বজন কবরস্থানটি দখলে নিতে পেশিশক্তি ব্যবহার করে কবরস্থানের ভূমির বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে দখলের পাঁয়তারা শুরু করে।‘

‘এ বিষয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর থানায় তিনি একটি লিখিত আবেদন করেন। ১৩ অক্টোবর এটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত হয়। যার নং ৭১৪। তারা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিবারের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করে। শিক্ষক পরিবারের সদস্য ও আইন মান্যকারী হিসেবে বিভিন্ন সংস্থায় স্ব-শরীরে হাজির হয়ে তাদের অভিযোগের জবাব দেয় হয়। এরপরও ১৩ অক্টোবর রাত ১টায় ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা ফোর্স নিয়ে তাদের বাড়িতে যান।‘

‘ওসি বলেন, জায়গা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে। এসময় ওসিকে তিনি কবরস্থান তাদের মৌরসী সম্পত্তি জানালে ওসি তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেন। খবর পেয়ে বুরুঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এমজি রসুল খালেক (লটই) ও আশপাশের লোকজন তাদের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। তখন ওসি ৫৪ ধারায় তাকে আটক করে নিয়ে থানায় নিতে চান। এসময় চেয়ারম্যান ও উপস্থিত লোকজন বাঁধা প্রদান করলে তিনি বলেন, উপর থেকে অনেক চাপ রয়েছে। তাই কবরস্থানে আর কোন প্রকার কাজ করবেন না, গেইটের পিলারগুলো ভেঙ্গে ফেলবেন।‘

গোলাম আজম আরো বলেন, ‘গৌছ মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় অনেক শক্তিশালী অবস্থানে ছিলো। বর্তমানে তার ভাগনা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। বিগত দিনে তাদের পরিবারের লোকজন ফ্রিডম পার্টির সাথে জড়িত ছিল। তাই তারা এলাকায় সব সময় সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন গরীব নিরীহ মানুষের জমিজমা জবর দখল করে আসছে। তাদের পরিবারের প্রভাব প্রতিপত্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারছে না। বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা, বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করে তারা প্রতিপক্ষের বাড়িঘর দখল করে ফেলে। তার এবং সংখ্যালঘু ২টি পরিবারের ভূমি তারা দখল করেছে। গৌছ মিয়ার ভাই মাখন মিয়া ইতোপূর্বে বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল লোকজনকে লন্ডনে পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। মাখন মিয়ার বিরুদ্ধে ১কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা হলে আদালত তার মাল ক্রোকের নির্দেশ দেন। যা ২০১৪ সালে ৭ জানুয়ারি স্থানীয় একটি পত্রিকায় তার ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ হয়।‘

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মুহিব খান, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, রন দেব, ফয়ছল আহমদ, অহিদুল মিয়া, গোলাম জিলানী ও রায়হান আহমদ।

Share





Related News

Comments are Closed