সিলেটে হামলার একমাসেও গ্রেফতার নেই
বিশেষ সংবাদদাতা : সিলেটে নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলার একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও সন্ত্রাসী চক্রের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ফলে প্রাণভয়ে মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী পরিবার ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট সদরের জালালাবাদ থানার ইসলামগঞ্জ বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বাজারে আসার পথে থানার পুরাণ কালারুকা লামাপাড়ার কমর আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সিলেট সদর কমান্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী ও তার পুত্র মুশতাক আহমদের উপর হামলা চালায়। হামলায় মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মুশতাক গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুশতাক আহমদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে গুরুতর জখম করে এবং তার দুটি দাঁত ও দাঁতের চোয়ালী ভেঙ্গে ফেলে। আশংকাজনক অবস্থায় তাদেরকে সিলেট ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দাঁতের চিকিৎসার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মুশতাক আহমদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সেখানে তার ডেন্টাল সার্জারীও করা হয়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলীর অপর পুত্র মুজির আহমদ গত ৭ সেপ্টেম্বর ৯জনকে এজাহারভুক্ত করে এসএমপির জালালাবাদ থানায় একটি মামলা{নং-০৩(৯)১৭}করেন। মামলার আসামীরা হচ্ছে সিলেট সদর জালালাবাদ থানার পুরাণ কঅরারুকা লামাপাড়ার কমর আলী, কমর আলীর পুত্র রুবেল। অন্য আসামীরা হচ্ছে একইগ্রামের রুমেল, ফজর আলী, দুলাল, জাহেদ, ইসলাম উদ্দিন, ফুল মিয়া ও মুদ্দিন। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার এসআই অঞ্জন কুমার দাস। হামলা ও মামলার একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় হামলাকারীরা গ্রেফতার এড়িয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নানাভাবে হয়রানী ও হেনস্থা করে চলেছে। প্রাণভয়ে মুক্তিযোদ্ধা তজমুল পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্নস্থানে দিনযাপন করছেন। পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলীর মেয়ে নেহার বেগম গত বুধবার (৪ অক্টোবর) এসএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন। লিখিত আবেদনে তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও দ্রুততর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। এসএমপি কমিশনার কার্যালয়ের ডেসপাস শাখা নেহার বেগমের আবেদন প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসএমপির জালালাবাদ থানার এসআই অঞ্জন কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, মামলার তদন্ত চলছে। আসামীরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতারে পুলিশের তলাশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed