পুত্র হত্যার বিচার চাইলেন অসহায় এক পিতা
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: পুত্র হত্যার সুষ্টু তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের জয়দা গ্রামের দরিদ্র কৃষক তৈয়বুর রহমান টিটু। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের জন্য প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আমাদের জয়দা গ্রামের নিজামের ছেলে মাহবুবুর রহমান নজমুল ওয়াজ মাহফিলের কথা বলে আমার ছেলে সোহাগকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে সোহাগ বাড়িতে না আসলে নজমুলের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গ্রামে আত্মীয় স্বজনকে জানানো হলে হৈ চৈ পড়ে যায়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরদিন ১৪ ফেব্রয়ারী সকাল অনুমান ৯টায় গ্রামের পার্শ¦বর্তী শেলনী হাওরে চেরাগ আলীর বোরো জমিতে কৃষকরা কাজ করতে গেলে সোহাগের ক্ষত বিক্ষত লাশ দেখতে পায়। হত্যাকারীরা সোহাগকে নৃশংস কায়দায় হত্যা করে মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখে। সোহাগের সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছাড়াও গলা কাটাঁ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সোহাগ জয়দা দাখিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে অত্যন্ত মেধাবী ছিল।
সোহাগের বাবা তৈয়বুর রহমান টিটু বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি আমি জগন্নাথপুর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করি। মামলা নম্বর ১০/২২। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই এলাকার নাজমুল ও রাজুকে গ্রেফতার করে। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী উদ্ধার করা হয় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা। এই দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সোহাগকে। ঘটনার পর মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করে নৃশংস এ হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ঘটনার প্রায় তিনমাস পর আসামি আসলম খা ও বাতেনকে আটক করা হয়। দুজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আসলম খা ও রাজু অস্থায়ী জামিনে বেরিয়ে আসে। অন্যান্য আসামি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আসলম ও রাজু জেল থেকে বের হয়ে এসে নানাভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আসামি আসলম খার বিরুদ্ধে এর আগে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলাসহ জগন্নাথপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদেও প্রতিও সহযোগিতার আকুল আবেদন জানান তিনি। এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুহিবুর রহমান ইয়াওর, ছালিক মিয়া, আব্দুর রউফ মিয়া, মো. হাবিবুর রহমান জায়গিরদার, রুহুল ইসলাম, রিটু মিয়া, জুবেদ আহমদ, শাহিনুর মিয়া, কবির আহমদ, জামিল আহমদ প্রমুখ।
Related News
সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা বাবা ও ছেলের মৃত্যু
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের মা, বাবা ওRead More
সুনামগঞ্জে হাসপাতালে একদিনে ৮০২ রোগী ভর্তি, ২৪৪ জনই শিশু
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এক দিনে সর্বোচ্চ ৮০২Read More



Comments are Closed