বিশ্বনাথে ১৩দিনে ৫ ছিনতাই, জনমনে আতংক
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে বৃদ্ধি পেয়েছে ছিনতাই ঘটনা। গত ১৩দিনে উপজেলায় ৫টি ছিনতাইর ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ব্যবসায়ী দুই ভাই। একটি ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ছিনতাইর শিকার হওয়া অন্যরা আইনের আশ্রয় নিতে ভয় পাচ্ছেন। এদিকে, বিশ্বনাথে ছিনতাই বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে বিরাজ করছে আতংক।
জানা গেছে, গত ৯ জুলাই উপজেলার সীমান্তবর্তী গড়গড়ি গ্রামের এক মহিলা উপজেলা সদরস্থ একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে বিশ্বনাথ-রামপাশা রোডের নরশিমপুর নামক স্থানে ছিনতাইর শিকার হন। এসময় ছিনতাইকারীরা ঐ মহিলার নিকট থেকে ৮৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
একই স্থানে পরদিন ১০ জুলাই বিকেলে ছিনতার শিকার হন উপজেলা সদরের কলেজ রোডস্থ হেকিম শাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী আমিনুর রহমান। তিনি উপজেলা সদর থেকে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার হন ঐ দম্পতি। দুই ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে এবং ব্যবসায়ীর স্ত্রীর হাতে থাকা ভ্যানেটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। এসময় ছিনতাইকারীরা ডেগার দিয়ে ব্যবসায়ীকে হামলার চেষ্টা করলে তারা (ছিনতাইকারী) গাড়ি নিয়ে মাটিতে পড়ে যান। আর এই সুযোগে ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান মোটরসাইকেলের স্পিট বাড়িয়ে দ্রত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে রক্ষা পান ঐ দম্পতি।
গত ১৭ জুলাই দুপুরে দেওকলস ইউনিয়নের বাসিন্দা দুই মহিলা ইসলামী ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখা থেকে টাকা তুলে যাওয়ার পথে উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর রোডে ছিনতাইর শিকার হন।
গত ১৮ জুলাই সকালে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বাইশঘর গ্রামের গনি মিয়ার স্ত্রী মিনা বেগম উপজেলা সদরের পুরান বাজারস্থ উত্তরা ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর ছিনতাইর শিকার হন। এসময় দুই ছিনতাইকারী অস্ত্রের দেখিয়ে মিনা বেগমের স্বর্ণের চেইন ও আংটি এবং নগদ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
সর্বশেষ গত ২০ জুলাই রাত ১২টায় উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের মইজপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মাসুক মিয়ার পুত্র আকবর হোসেন আক্কল ও আলী হোসেন স্থানীয় কালিগঞ্জ বাজার তাদের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (নাইসস টেলিকম) থেকে পায়ে হেটে বাড়ি ফেরার পথে আলাপুর নামক স্থানে পৌঁছামাত্র ছিনতাইর শিকার হন। ২টি মোটর সাইকেলে ৬ জন ছিনতাইকারী তাদের ব্যারিকেড দিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হামলা করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় ছিনতাইকারীদের হামলায় আকবর হোসেন আক্কল ও তার ভাই আলী হোসেন আহত হন। ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আলী হোসেনের হাত ও পায়ের রগ কেটে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আলী হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট নর্থইস্ট হাসপাতাল ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তিতে শুক্রবার (২১ জুলাই) ভোরে মুমুর্ষু অবস্থায় আলী হোসেনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার ওসি শাসসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, থানায় নতুন যোগদান করেছি। শুক্রবার রাতে দুই ভাইয়ের ওপর হামলার যে ঘটনাটি ঘটেছে এটি মূলত পূর্ব পরিকল্পিত একটি ঘটনা। এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া আর কোনো ছিনতাইর ঘটনার অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহন করা হবে। বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির জন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed