Main Menu

শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় অভিযোগ গঠন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের পৃথক দু’টি মামলায় অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
সোমবার (১০ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আব্দুল হামিদ শুনানি শেষে এসটিসি ২০৭নং মামলায় অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ও এসটিসি ২০৮নং মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করে আগামী ২০ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
একই সাথে, এ মামলায় জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় কলারোয়া উপজেলার যুগিখালি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, মাহাফুজুর রহমান সাবু ও রিঙ্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া, কাগজপত্র অনুযায়ী মামলার আসামি বিএনপি নেতা রাকিব হোসেন মোল্লার বয়স ২০০২ সালে ১০ বছর ১০ মাস ১৯ দিন হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওসমান গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরায় আসেন। সেখান থেকে যশোরে ফিরে যাওয়ার পথে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে পৌছুলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও তৎকালীন সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং বিএনপি নেতা রঞ্জুর এর নির্দেশে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা একটি যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা-জ-০৪-০০২৯) রাস্তার উপরে আড় করে দিয়ে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে এক ডজন দলীয় নেতা-কর্মী আহত হয়।
এ ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেমউদ্দিন বাদি হয়ে যুবদল নেতা আশরাফ হোসেন, আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০/৭৫ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা নালিশী আদালত ‘ক’ অঞ্চলে একটি মামলা (সিআরপি-১১৭১/০২) দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহণ করে বিচারক এম আই ছিদ্দিকী তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়াকে নির্দেশ দেন। ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঘটনা মিথ্যা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
পরে বাদি মোসলেমউদ্দিন পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি আদালতে নারাজির আবেদন জানালে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
এ খারিজ আবেদনের বিরুদ্ধে বাদি ২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা (১৭/০৪) দায়ের করেন। এই রিভিশন মামলাও আদালত খারিজ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট মামলার বাদি এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ক্রিমিনাল মিস কেস (৫৮৯৩/০৪) দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানী শেষে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই নিম্ন আদালতের আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসাথে নিন্ম আদালতে মামলার কার্যক্রম নতুন করে শুরু করার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশের কপি দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ফাইলবন্দি থাকার পর ২০১৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এসে পৌঁছায়। এরপর শুনানি শেষে মূখ্য বিচারিক হাকিম নিতাই চন্দ্র সাহা ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শফিকুর রহমান ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এই মামলাটি তিনটি ভাগে ভাগ হয়। যার নম্বর এসটিসি ২০৭/১৫, এসটিসি ২০৮/১৫ ও টিআর ১৫১/১৫।
এর মধ্যে সোমবার এসটিসি ২০৭নং মামলায় অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ও এসটিসি ২০৮নং মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করে ২০ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন, জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট ওসমান গনি, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম হায়দার আলী, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট তপন কুমার দাস প্রমুখ।

 

Share





Related News

Comments are Closed