Main Menu

শাবিতে প্রক্সি দিয়ে ভর্তি : ৮ মাসেও বসেনি তদন্ত কমিটির মিটিং

শাবি সংবাদদাতা: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে ভর্তির অভিযোগ উঠার পর গত ২১ ডিসেম্বর সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে বসেনি তদন্ত কমিটির কোন মিটিং। এ তথ্য জানান শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সাজেদুল করিম।
অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় অন্যকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠে মোহাম্মদ হোসেন রাব্বি নামের এক শিক্ষার্থীর উপর। তারই প্রেক্ষিতে পরদিন ২১ ডিসেম্বর বুধবার সাত সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এ দীর্ঘ সময়ে কমিটির কোন সভা বা মিটিং বসেনি। তবে কোন প্রকার মিটিং বা সভা যদি বসেও সেটা আমাকে জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. সাবিনা ইসলাম জানান, গঠিত তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন কিনা তিনি নিশ্চিত নন। তবে গঠিত কমিটির কোন কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি বলে জানান তিনি।
শাবির ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ‘এ’ ইউনিটের মানবিক বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। আর এ দিনেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ হোসেন রাব্বিকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে ভর্তি করানো হয়। তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটের মানবিক বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হোসেন রাব্বি রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পাশ করেছেন।
দীর্ঘ সময়েও কেন তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম জানান, এ আলসেমির তো কোন মানে হয় না। আমাদের কাজ নরমাল আর সেটা শেষ হয়েছে। এটা হলো টেকনিক্যাল কাজ। ছবি ও তাকে মিলানো। আর সেটা পার্সপোর্ট অফিসের এক্সপার্ট দিয়ে দেখানো হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে সেটা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
শুধুমাত্র আমরা বসতে পারছি না বলে বসা হচ্ছে না উল্লেখ করে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ এইচ এম বেলায়েত হোসেন জানান, হ্যান্ড রাইটিং ও ফটোগ্রাফার দুইজন এক্সপার্টের কাছে তদন্তের জন্য হাতের লেখা ও ছবি পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির মিটিং করা হচ্ছে না সদস্যদের এমন অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মিটিংয়ের কিছু না। তবে একটা কিংবা দুইটা হতে পারে।
তদন্ত করার জন্য আমরাতো এক্সপার্ট না। এর জন্য টেকনিক্যাল হেল্প দরকার হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনেক আগেই দেওয়া যেত। তবে এ রিপোর্টের আগে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করার সন্দেহে আটককৃত শাবি শিক্ষার্থী আল আমিনের তদন্তের রিপোটর্টি এ সপ্তাহে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আল আমিন শাবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাবি শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির কর্মী। তাকে স্থগিত কমিটির সংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলামের রুম থেকে আটক করা হয়। তবে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়ে নজরুল ইসলাম জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হোসেন রাব্বির মা জানান, রাব্বি বর্তমানে বাড়িতে আছে। সে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে না। তবে পরবর্তীতে রাব্বি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন দেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখা যাক কি করা যায়।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা জানান, রাব্বি ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হলেও কোন ধরনের ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলামকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ড. সাজেদুল করিম, ড. কবির হোসেন, ড. সাবিনা ইসলাম, ড. জহিরুল ইসলাম, ড. এ এইচ এম বেলায়েত হোসেন ও রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ নভেম্বর শাবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিটের মানবিক বিভাগের ভর্তি কার্যক্রমের সময় হোসাইন রাব্বি প্রক্সি দিয়ে ভর্তি জালিয়াতি করেছে এমন সন্দেহে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা আটক করে প্রশাসনের কাছে দেয়। পরবর্তীতে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু ডকুমেন্ট নিয়ে ছেঁড়ে দেওয়া হয় বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়।

 

Share





Related News

Comments are Closed