বিশ্বনাথে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি, অতিষ্ঠ জনজীবন
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে আশংঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি। উপজেলা সদরের নতুনবাজার এলাকায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ৫টি দোকানে চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। আরো কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি করার চেষ্ঠা ব্যর্থ হয়েছে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের কারণে। তালা ভেঙ্গে সংগঠিত এসব চুরির ঘটনায় প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন বাসা-বাড়ির পাশাপাশি চোরের দলের প্রধান টার্গেট হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। বড় বড় মার্কেটের ভিতরে থাকা স্বর্ণের দোকানও বাদ পড়ছে না চোরের টার্গেট থেকে। সেগুলোতেও সংগঠিত হচ্ছে চুরির ঘটনা। গত ৩/৪ দিন ধরে চোরের উপদ্রোব বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার খাজাঞ্চী রোড়ে অবস্থিত উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গৌছ খান’র বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া উপজেলার নতুন বাজারস্থ ব্যাংক পাড়াখ্যাত ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড এলাকা থেকে দিনের আলোতেই প্রতিনিয়ত মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়ে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলা পরিষদ রোড়ে অবস্থিত জোবেদা বীজ ঘর, আশরাফ মেটাল কিং, মাদ্রাসা মার্কেটের মাঈশা ভেরাইটিজ ষ্টোর, বিশ্বনাথ-মুফতিরগাঁও স্কুল রোড়ে অবস্থিত মাহি এন্ড ফাইজা ভেরাইটিজ ষ্টোর, বিশ্বনাথ-মিরেরচর রোড়ে (চৌধুরীগাঁও) অবস্থিত সেলিম ভেরাইটিজ ষ্টোর। স্থানীয়দের প্রচেষ্ঠায় ব্যর্থ হয় নতুন বাজার মাছহাটা মসজিদ মার্কেটের দুটি দোকানে চুরির পায়তারা।
দোকান চুরির সত্যতা স্বীকার করে মাহি এন্ড ফাইজা ভেরাইটিজ ষ্টোরের সত্ত¡াধিকারী মুজেফর আলী বলেন, দোকানের সাটারের তালা লাগানোর হোক ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে দামী সিগারেট, নগদ টাকা’সহ মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল।
আবদুল হেকিম (ছন্মনাম) নামের ব্যবসায়ী বলেন, টহল দেওয়ার জন্য থানা থেকে বের হলেও পুলিশের দলগুলো রাতে নিজেদের দায়িত্ব (টহল) পালন করে না। কোন এক স্থানে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিংবা কোথাও বসে গল্প-গুজব করে সময় কাটিয়ে আবার থানায় ফিরে আসেন। এজন্যই চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। তা না হলে উপজেলা সদর এলাকায় এক রাতে কিভাবে ৫টি দোকানে চুরি হয়।
বিশ্বনাথ নতুন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি শামীম আহমদ বলেন, ঘন ঘন দোকান চুরি হওয়ার ফলে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন। চুরি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পুলিশ প্রশাসনের দিকেও মানুষ আঙ্গুল তুলছেন। উপজেলা সদরে এক রাতে ৫টি দোকান চুরি হলে অন্য এলাকার অবস্থা কেমন হবে।
উপজেলা আইন-শৃংঙ্গলা কমিটির সভাপিত ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, চুরি প্রতিরোধে পুলিশী টহল আরোও বৃদ্ধি করা হবে। আর পুলিশকে সহযোগীতার জন্য সচেতন জনসাধারণের সার্বিক সহযোগীতার আহবান জানান তিনি।
Related News
জকিগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে প্রবাসী হোসেন আহমদের বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতRead More
গোয়াইনঘাটে যৌথ অভিযানে ৮ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনাRead More



Comments are Closed