Main Menu

বিশ্বনাথে খুন হওয়া সেই মহিলার নাম ‘সাথী’

মো. আবুল কাশেম,বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে প্রায় দেড় মাস পূর্বে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত মহিলার লাশের সন্ধান বের করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও সেই খুনের কোনো রহস্যও উদঘাটন করা সম্বব হয়নি। গত ২২এপ্রিল সকালে রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে ওই মহিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর ওইদিন অজ্ঞাত পরিচয়ে পুলিশ বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১১। ওইদিন লাশের বুকের মধ্যে থাকা একটি ব্যাগের ভেতরে পাসপোর্ট সাইজের দুইটি ছবি পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে ইমরান আহমদ রিয়াদ (২৮) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সে রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মুছলিম আলীর পুত্র। সেই সাথে সন্দেহভাজন হিসেবে পার্শ¦বর্তী পালেরচক গ্রামের মৃত ইছবর আলীর পুত্র সিএনজি চালক লুৎফুর রহমান (২৫) নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তাদের কাছ থেকেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ওই অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার নিয়ে রামচন্দ্রপুর ও পালেরচক এলাকায় চলছে তোলপাড়।
অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, খুন হওয়া ওই মহিলা ৪ বছর ৯ মাস বয়সের (বর্তমান বয়স) এক শিশু কন্যা ছামিয়া আকতার আনিছা’র মাতা। নিহত ওই মহিলার নাম হচ্ছে তানজিয়া আকতার সাথী। তার নাম আনিছার টিকার একটি কার্ড থেকে পাওয়া যায়। তার স্বামী উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের পুত্র ছাইদুর রহমান ছয়িদ। এলাকায় ‘সৈয়দ’ নামে পরিচিত। সে প্রায় ৫ বছর ধরে সৌদি আরব রয়েছে। সে দেশে থাকতে একজন ডাকাত ছিল বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
প্রবাসী সৈয়দ’র মায়ের সাথে আলাপকালে জানা যায়, তার ছেলে ‘সৈয়দ’ দেশে থাকতে বেশ কয়েকমাস একাধিক মামলায় পলাতক হয়ে এলাকা ছাড়া ছিল। আর সে পলাতক থাকা অবস্থায় পরিবারের অজান্তে ‘সাথী’কে বিয়ে করে। সে প্রবাসে যাওয়ায় ‘সাথী’ হঠাৎ করে ‘আনিছা’কে সাথে নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে সৈয়দের স্ত্রী এবং আনিছা তার মেয়ে বলে দাবি করে। কিন্তু সাথী তার শিশুকন্যা আনিছা’কে সৈয়দের বাড়িতে রেখে গ্রেফতার হওয়া ওই লুৎফুর রহমানের হাত ধরে পালিয়ে যায়। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম নেয়।
অপর আরেকটি সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর পূর্বে ‘সাথী’ দ্বিতীয় স্বামীর দাবি নিয়ে রামপাশা বাজার থেকে রিকশাযোগে লুৎফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি পালেরচকের উদ্ধেশ্যে রওয়ানা দেয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে বখাটেদের খপ্পরে পরে পার্শ্ববর্তী পাঠাকইন গ্রামের গণি মিয়া (৬৫) নামের এক মুরব্বির বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তখন গণি মিয়া স্থানীয় মেম্বারসহ কয়েকজন লোককে তার বাড়িতে ডেকে সমবেত করেন। এসময় ‘সাথী’ তাদেরকে জানায় সিএনজি চালক লুৎফুর রহমান (গ্রেফতারকৃত) তার স্বামী। তখন উপস্থিত মুরব্বিয়ানদের মধ্যস্থতায় লুৎফুর রহমান ও তার দুই ভাই ছয়ফুল আলম এবং নুর আলমকে ডেকে নিয়ে ‘সাথী’কে তাদের হাতে তুলে দেন। বর্তমানে এবিষয়টি সম্পুর্ণভাবে অস্বীকার করছেন লুৎফুরের ভাই নুর আলম। আর তাদের হাতে তুলে দেয়ার প্রায় দেড় বছরের ভেতরে সাথী’র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের ছবি দেখে লুৎফুর রহমানের স্ত্রী বলে সনাক্ত করেন মধ্যস্থকারি গণি মিয়া এবং সাথী’র প্রথম স্বামী সৈয়দের বাড়িতে গেলে সেই ছবি দেখে সাথী বলে সনাক্ত করেন সৈয়দ’র মা। তবে সাথী সৈয়দ’র বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস না করায় তার বাবার বাড়ির পরিচয় পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রবাসী সৈয়দের মা’ও তার বাবার বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেননি। তবে সাথী অন্য জেলার ভাষায় কথা বলতো বলে তিনি জানান। লুৎফুর রহমান’কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে অনেকেই মনে করছেন।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি তদন্ত কামাল হোসেন বলেন, এই অজ্ঞাত মহিলার লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে পরিচয় পাওয়ার সন্ধানে রয়েছেন। আর খুনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed