Main Menu

নবীগঞ্জে বোরো ফসল হারিয়ে আউশের স্বপ্ন বুনছেন

ছনি চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা মনোবল হারাননি। এ বছর বোরো ধান হারিয়ে কৃষককুল এখন মহাব্যস্ত তাদের কৃষি জমিতে আউশ ধান বুনতে। কৃষকরা এখন বীজতলা থেকে চারাতোলা, জমি তৈরি ও চারাগাছ রোপণসহ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় এমন নানা কাজ করছেন। ওই উপজেলার প্রতিটি ছোট বড় হাওড় এলাকায় ক্ষেতের মাঠে এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে । এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ও পৌর এলাকার চাষিরা । আউশ ধান রোপন আর পরিচর্চার দিকে তাদের মন।
এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে বির্পযস্ত এ উপজেলার কৃষককুল । হঠাৎ চৈত্রের আগাম বন্যায় বোরো কৃষকেরা আশার স্থলে তাদের নিরাশা হয়েছে । একটি বোরো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি তারা । বোরো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় নিঃস্ব হাওড় ও নদী পাড়ের কৃষককুল । এমন ক্ষতি পোষাতে দ্বিগুন ফসল উৎপাদনের বড় স্বপ্ন নিয়ে তারা এখন অনাবাদি জমি ও আউশ ধান চাষাবাদের আওতায় এনেছেন নবীগঞ্জ উপজেলার চাষিরা । তাই তারা সকাল-সন্ধ্যায় রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষি জমিতেই সময় পার করছেন । গত রোববার থেকে বৃষ্টি ও ভারি বর্ষনে উচু কৃষি জমিতে (ক্ষেতে) বৃষ্টির পানি জমেছে। এতে আউশ ধানের চাষের জন্য সাশ্রয় ও সেচ সহায়ক হয়েছে বলে চাষিরা জানান । আরো জানা গেছে -এমন উচু জমি শুধু শীত মৌসুমে সবজি চাষের জন্য আবাদ হতো এবং ধান চাষ হতোনা । এ বছর আউশ ধানের পর ওই ধরনের জমিতে চাষ হবে শীতকালীন সবজি । চাষিরা জানালেন -এ বছর হাওড় অঞ্চলের বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উপজেলার ধান উৎপাদনের সমতা রাখতে তারা অনাবাদি জমিও ধান চাষের আওতায় এনেছেন । তাদের প্রচেষ্টা সফল হলে আগ্রহী হবেন স্থানীয় কৃষকেরা । আর প্রতি বছরই আউশ ধান চাষের আওতায় আসবে অনাবাদি কৃষি জমি বাড়বে আউশ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা । উৎসাহ পাবে এ উপজলার কৃষকেরা ।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে- এ বছর বোরো ধান অকাল বন্যায় পানিতে তলিয়ে যাবার কারনে এখন আউশ ধান চাষাবাদের ওপর বিশেষ নজন দেয় উপজেলা কৃষি দপ্তর । তারা কৃষকদের মনোবল ধরে রাখতে ও উপজেলার ধান উৎপাদনের সমতা রাখতে তারা উদ্দ্যোগী হয় । সেই লক্ষ্যে উপজেলার অনাবাদি পতিত জমিগুলো আবাদে উদ্বুদ্ধ করেন তারা । তাদের এমন উদ্দ্যোগ সাদরে গ্রহন করেন চাষিরা ।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছে আলাপ কালে জানা গেছে তারা এ পর্যন্ত অধিকাংশ জমিতে আউশ ধান রোপন করছেন । চাষের জন্য তৈরি হওয়া জমিতে দ্রত চলছে রোপনের কাজ। আবার অনেক কৃষকই প্রায় সপ্তাহ দশ দিন পুর্বে রোপনের কাজ শেষ করেছেন । তবে সব চাষিরা এখন মনে বড় আশা বেঁধে আছেন আবহাওয়া ভাল থাকলে তাদের আউশ ধান ফলনের ফসল ঘরে তোলবেন । কৃষকদের দাবি সার, কীটনাশকনহ অন্যান্য কৃষি উপকরন সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতা পাবার । তারা আরো বলেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা শুধু চাষাবাদের জন্য বড় বড় শ্লোগান ও বয়ান দিয়ে থাকেন । কিন্তু চাষাবাদের পরামর্শ ছাড়া অন্য কিছু সহযোগিতা তারা পাননা । আর অনেক সময় তাদের কাছে পরামর্শ গ্রহন করতে গেলে তাদের পাওয়া অসম্ভব হয়ে পরে । সব দিক মিলিয়ে সচেতন মহল মনে করেন কৃষককুল বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশে যেনো মনোবল হারায়নি, এবং তারা এখনো অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন তাদের আরো উৎসাহ দিতে সময় মতো সাহায্য সহযোগিতা করা দরকার সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরের।

Share





Related News

Comments are Closed