ইম্পালস টাওয়ার নিয়ে জালিয়াতি-প্রতারণা
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারের ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ওরফে উকিল সিরাজের বিরুদ্ধে নানা জালিয়াতি-প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে। মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সরষপুর এলাকাবাসী।
এলাকার প্রতারিত মানুষেরা অভিযোগ করেন, গির্জা সমিতির কাছ থেকে তারা রিকাবিবাজারের বিভিন্ন দাগে জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। সিরাজ গোপন দলিল করে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই জায়গা দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সেখানে ইম্পালস টাওয়ার নির্মাণ করেন। পাশাপাশি তিনি ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব ঘটনায় সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু উকিল সিরাজ ভুক্তভোগীদের নানা হুমকি দিচ্ছেন। এর আগেও সিরাজ প্রতারণা মামলায় জেল খেটেছেন বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতারিত লোকেরা বলেন, পুলিশ লাইন গির্জা সমিতির তৎকালীন চেয়ারম্যান হরেঙ্গা লুসাইয়ের কাছ থেকে ৯৯ বৎসরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়েছিলাম আমরা। প্রায় ৫০ বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছিলাম। ২০০০ সালে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এই সমিতির জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তিনি ২০০৬ সালে আমাদের এই জায়গাটি একটি গোপন দলীল (১৮৫২২/০৬) তৈরি করে নামজারি (খতিয়ান নং ১৩৮৪১) করেন। আমাদের জায়গার উপর সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন সহ যাবতীয় অনুমোদন নিয়েছে। এখানে সরষপুর এলাকার আলাউদ্দিন আহমদের বিসমিল্লাহ ভবন, নেছাফর আলীর আধুনিক হাসপাতালের ভবন, শেখ হাসিনার প্রাক্তন সৈনিক ক্লাব, আব্দুল জলীল, বেলাল হোসেন এবং এমরান হোসেনের মিড টাউন কমপ্লেক্স, ফালিক উদ্দিনের সরষপুর বাসভবন, সেলিনা সুলতানার বাসভবন, সিরাজুল হকের বাসভবন, এম এ সাত্তারের প্লট রয়েছে। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে গোপন দলিল করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৬ সালে সিরাজুল ইসলাম ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেড নামে একটি ডেভলাপার কোম্পানি তৈরী করেন। তিনি তাদের জায়গা সহ প্রায় ৮০ শতক জায়গা উক্ত কোম্পানির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে এই সাফ কবলা দলীল (দলীল নং ১৮৫২২/০৬) তৈরি করেন। সাধারণ মানুষকে এই জায়গা দেখিয়ে এই কোম্পানির শেয়ার বিক্রয় করা শুরু করেন। ইতোমধ্যে তিনি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিভিন্ন্ প্রবাসীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেতে থাকেন। ২০০৭ সালে সিরাজুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই স্থানে অবৈধ ভাবে ইম্পালস টাওয়ার স্থাপনের পরিকল্পনা নেন। তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে এই জমিতে ২০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমতি (স্বারক নম্বর- হচ্ছে ১৪৮৯) গ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০ জন প্রবাসীর কাছ থেকে ইম্পালস বিল্ডার্সের ডাইরেক্টরশীপ বিক্রয় করার মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। তারপর শুরু হয় ইম্পালস টাওয়ারের নির্মাণ কাজ। পরে তিনি শুধু ৫জন ডাইরেক্টরের নামে এই কোম্পানিটি নিবন্ধন করেন। এখানে তার পরিবারে সদস্য রয়েছে দুজন, তার স্ত্রী ফরিদা আফসানা এবং শ্যালক হাসান মোহাম্মদ জাকারিয়া। অন্য দুজন ডাইরেক্টর হচ্ছেন বিশ্বনাথের মাওলানা আব্দুস শহিদ এবং মুহিউল ইসলাম চৌধুরী। মূলত, সিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন ডাইরেক্টার থেকে টাকা নিয়ে একটি পারিবারিক কোম্পানি গঠন করেন এবং বাসার বেডরুমে বসেই ইচ্ছেমতো কোম্পানি রেজুলেশন তৈরি করেন। অথচ এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন সাধারণ সভা এবং কোনো অডিট রিপোর্ট প্রকাশ না করে দীর্ঘদিন যাবৎ রিকাবিবাজারে প্রতারণা করে চলেছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে আবার এই জায়গা দেখিয়ে এই প্রতারক চক্রটি সিলেট মার্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামে আরেকটি কোম্পানি গঠন করে। তখন প্রায় ২৫০ জন প্রবাসীর কাছ থেকে (প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৫ লক্ষ টাকা) কয়েক কোটি টাকার প্রতারণা করে। ওই কোম্পানির ক্ষেত্রেও ওই একইভাবে ইম্পালস বির্ল্ডাসের মতোই কোন সাধারণ সভা করেনি এবং কোন অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করেননি। বর্তমানে এই কোম্পানি দুটির কোন কার্যালয় এবং কার্যক্রম নেই । প্রতারিত ব্যক্তিরা তার কাছে এ বিষয়ে সুরাহা চাইলে তাদেরকে নানা রকমের মিথ্যা এবং লোভনীয় প্রতিশ্রæতি দেন সিরাজ। বাধ্য হয়ে কেউ আইনের আশ্রয়ে গেলে হুমকিসহ মিথ্যা মামমলার ভয় প্রদর্শন করেন। এর ফলে প্রতারিত মানুষগুলো তার এই ষড়যন্ত্রের কাছে বড় অসহায়। ইতোমধ্যে বৃটিশ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে তিনি তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং আরও ১০-১৫টি মিথ্যা মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দি এইডেড স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক ফালিক উদ্দিনকে, হাজী শেখ হাসিনা, বেলাল হোসেন এবং এমরান হোসেনকেও দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা দেওয়ানী/ফৌজদারী মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। যদিও অধিকাংশ মামলায় তিনি পরাজিত হয়ে আসছেন। তবুও উকালতির বড়াইয়ে মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর নেশা তাঁর যায়নি। যে জন্য এই প্রতারক আইনজীবীর সনদ বাতিলের দাবিতে বার কাউন্সিল বোর্ডে শরণাপন্ন হয়েছেন একজন ভুক্তভোগী। সিলেট মার্ট লিমিটেড এর একজন শেয়ার হোল্ডার সৌদি প্রবাসী আব্বাস আলী ১৫/১১/২০১৬ ইং তারিখে বাদি হয়ে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন (সদর সি আর নং ১৪১৫/১৬) এবং মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। তারপর ১৬/০২/১৬ ইং তারিখে আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করলে আদালতে মামলাটি গ্রহণ করে অত্র কোম্পানির ডাইরেক্টরদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। এ ছাড়াও ১৩৩৬/১৬ নং মামলাটি পি বি আই এর তদন্ত প্রতিবেদনে অত্র কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং চুরির অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমাণীত হলে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করে এবং আগামী ২৪/০৫/২০১৭ইং তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই হায়হায় কোম্পানিটি ২০০৬ সালে রিকাবী বাজারের হোয়াইট রোজ শপিং কম্পেলেক্সের ৪র্থ তলায় কার্যালয় স্থাপনের জন্য স্পেস ভাড়া নেয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাদের র্কাযালয় ছিল। কিন্তুু দীর্ঘদিন উক্ত স্পেসের ভাড়া এবং বিদুৎ বিল সহ প্রায় ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা বকেয়া জমে। এতে ভবনের মালিক দরছ মিয়া তাদের কার্যালয় উক্ত ভবন থেকে সরিয়ে দেন এবং আজ পযর্ন্ত এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এই বকেয়া ভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি।
ফেন্সুগঞ্জের ঘিলাছড়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম উরফে ফটিক উকিল একজন ভদ্রবেশী প্রতারক। যিনি নানা কৌশলে প্রায় তিন শতাধিক মানুষকে প্রতারিত করেছেন। এই মানুষগুলো আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার প্রতারণার সর্বশেষ শিকার বৃটিশ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং এর প্রিন্সিপাল তৌহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এরপর থেকে তাকে হয়রানি করে আসছেন সিরাজুল ইসলাম। ইতোমধ্যে বৃটিশ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে তিনি চারটি মিথ্যা মামলা (এয়ারপোর্ট সি. আর ১৮৩/১৬, কোতয়ালী সি. আর. ২১০/১৭, কোতয়ালী সি. আর ২৬৮/১৭, কোতয়ালী সি. আর ৬৫৪/১৭) দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন, সিহাব উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন হাজী আলাউদ্দিন আহমদ, এম এ সাত্তার, সিরাজুল ইসরাম, আব্দুল জলিল, শামছুল ইসলাম, শাহীন, এম জে ফাহিম, তৌহিদুল ইসলাম, দরছ মিয়া।
Related News
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহণ শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত ৪
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিকদের মধ্যকার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রেRead More
সিলেটের ডিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের দোকান কোঠার চুক্তি বাতিলের নোটিশেরRead More



Comments are Closed