Main Menu

ওসমানীনগরে হিন্দু পরিবারের ভিটেমাটি দখল চেস্টার অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের ওসমানীনগরে দরিদ্র এক হিন্দু পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি ওই কাঠমিস্ত্রীর পরিবারকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে গুলিও চালিয়েছেন। বাড়িতে পূজো চলাকালে গুলি চালিয়েছেন ওই জনপ্রতিনিধি ও তার সঙ্গীরা। গায়ের জোরে কাঠমিস্ত্রী পরিবারের আদিপুরুষের ভিটেমাটি গ্রাস করার অপচেষ্টায় এমনটি করছেন উমরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী। এমন অভিযোগ করেছেন গোয়ালাবাজারের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁওয়ের কাঠমিস্ত্রী প্রণধীর সূত্রধর।

বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রণধীর সূত্রধরের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার বোন মিনা রাণী সূত্রধর। লিখিত বক্তব্যে প্রণধীর সূত্রধর দাবি করেন- ‘পূর্বপুরুষ থেকে তারা আজ অবধি কাঠমিস্ত্রী পেশায় জড়িত। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন সারাদেশে পাকিস্তানী বাহিনী এবং রাজাকার গোষ্ঠির নির্মম অত্যাচারে অন্যান্য হিন্দু পরিবার লাঞ্চনা আর বঞ্চনার শিকার হয়েছিল; বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায়ও তারা লাঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।’

লিখিত বক্তব্যে প্রণধীর আরোও দাবি করেন- ‘মুক্তিযুদ্ধে তাদের প্রতিবেশী কিছু লোক এবং তাদের স্বজনদের চোখ পড়ে প্রণধীরের বাপ-দাদার ভিটেমাটির দিকে। তখন তাদের অত্যচার, জুলুম সহ্য করতে না পেরে গ্রামের অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যে তারা থেকে গেছেন। ১৯৮৪ সালে সেই একই ব্যক্তিরা আবারো ওই ভিটেমাটি আত্মসাতের অপচেষ্টা করে। তখন তৎকালীন মুরব্বিরা ভিটেমাটি রক্ষা করেন। কিন্তু ওই একই চক্র ২০১৫ সালে ফের প্রণধীরের ভিটেমাটি গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- ‘নির্যাতনকারী চেয়ারম্যান গোলাম চৌধুরী প্রবাস থেকে দেশে ফিরে প্রণধীরকে তাদের বাড়িতে কাঠের কাজের কথা বলে ডেকে নেন। তখন প্রণধীরকে তাদের বাপ-দাদার বাড়ি বিক্রি করে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বলেন গোলাম কিবরিয়া। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার পর থেকেই তাদের আদিপুরুষের ভিটেমাটি গ্রাস করতে গোলাম কিবরিয়া ও তার সঙ্গীরা শুরু করেছে নানারকম অত্যাচার- নির্যাতন। প্রণধীর সূত্রধর দাবি করেন- ‘চেয়ারম্যানের লোকেরা তাদের বাড়ির উঠানে কখনো জবাই করা গরুর মাথা, কখনো ভুড়ি ফেলে ধর্মকে আঘাত করার মাধ্যমে তাদেরকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন।’

২০১৬ সালে গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে গরীব-অসহায় মানুষদের দারিদ্রতাকে পুঁজি করে ব্যালটের রায় ছিনিয়ে নিয়ে উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে আরোও বলা হয়- ‘চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রণধীর সূত্রধরের পরিবারের উপর তাদের অত্যাচারের মাত্রা আরোও বেড়ে যায়। তার মামা ফয়জুল হক তার মামাতো ভাই ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মাহফুজুল হক আখলু একই গ্রামের বাসিন্দা, তাদের ভাই ভাতিজাদের নিয়ে আমার পরিবারের উপর আবারো শুরু করে নানারকম অত্যাচার নির্যাতন। তারা আমাদের ধর্মকে অপমান করেই ক্ষান্ত হয়নি, পূজোর সময় চেয়ারম্যানের বাড়ির ছাদ থেকে গুলি করা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পুলিশ চেয়ারম্যানের বাড়ির পিছন থেকে ৬/৭ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করেছে।’

প্রণধীর সূত্রধর দাবি করেন-‘চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ও তার সঙ্গীদের অত্যাচারে রুজি-রোজগার বন্ধ রেখে তাদেরকে বাড়িতে পাহারা দিতে হচ্ছে। বাড়ির বেশিরভাগ বয়স্ক মানুষ অসুস্থ রয়েছেন; তাদের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। বাড়িতে কোন পুরুষ লোক না থাকলেই চেয়ারম্যান ও তাদের সহযোগিরা পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের উপর নির্যাতন, গালিগালাজ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।’

সর্বশেষ গত রবিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে প্রণধীর সূত্রধর গোয়ালাবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চেয়ারম্যান ও আকলু বাহিনীর লোক তাকে হত্যার উদ্দশ্যে গুলি করে। এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রণধীর সূত্রধর ও তার স্বজনরা দাবি করেন তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রæত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সিলেট-২ আসনের সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের প্রতি অনুরোধ করেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিতে শান্তিতে থাকার নিশ্চয়তা চান তারা। দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে তাদের জীবনের চরম ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারটির সদস্যের মাঝে।

সংবাদ সম্মেলনে আরোও উপস্থিত ছিলেন প্রণধীর সূত্রধরের মাতা আয়তি রাণী সূত্রধর ও বাবা প্রমেশ সূত্রধর।

Share





Related News

Comments are Closed