লাখাই উপজেলার ত্রিশ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ
ছনি চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: পানি উন্নয়ন বোডের্র গাফিলতির কারণে বাধ ভেঙ্গে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপজেলার ৩০ হাজার কৃষক পরিবার। বাধ ভেঙ্গে খোয়াই নদীর পানিতে চোখের সামনে নষ্ট হয়েছে তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা সোনালী ফসল। এতে উপজেলার চার ইউনিয়নের দুর্গত মানুষের হাহাকার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। হাওর থেকে কাঁচা পাকা ও পঁচে যাওয়া ধান সংগ্রহ করতে প্রতিদিনই কৃষকরা ছুটছেন নৌকা নিয়ে। শত চেষ্ঠা করেও ন্যুনতম ফসল ঘরে আনতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন দিশেহারা কৃষক। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে স্থায়ীভাবে বাধ নির্মাণের জন্যই দীর্ঘ মেয়াদী দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। লাখাই উপজেলার কৃষকদের দুঃখ হিসেবে পরিচিত খোয়াই নদী। প্রতিবছরই খোয়াই নদীর পানি চন্দ্রপুর এলাকার হেলারকান্দি বাধটি ভেঙ্গে কম-বেশী ক্ষতি করে ফসলের। কৃষকদের দাবীর মুখে সরকার স¤প্রতি এ বাধটি নির্মাণে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। দরপত্র আহবান করে কাজ শুরুর নির্দেশও প্রদান করা হয় ঠিকাদারকে। কিন্তু এতে সময় ক্ষেপন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাতের কথা বিবেচনায় না নিয়ে আগামী জুন মাসে কাজ শেষ করার সময় বেধে দেয়া হয় ঠিকাদারকে। কৃষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার সতর্ক করার পরও বোরো মৌসুমের পূর্বে বাধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে টানা বর্ষণে গত ২৬ মার্চ ভেঙ্গে যায় পরিত্য মাটির এ বাধটি। ফলে খোয়াই নদীর প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যায় হাজারো কৃষকের স্বপ্নের ফসল। দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকরা। তার উপরে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে চড়া সুদে আনা মহাজনদের ঋণের টাকা। সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা কৃষকরা এখন সরকারি সহায়তার আশায় বুক বেঁধে আছেন। পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পেলে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে কাটাতে হবে তাদের।
লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ এ প্রতিবেদকে জানান, এ বাধটি ভেঙ্গে খোয়াই নদীর পানি প্রবেশ করে প্রতিবছর লাখাই উপজেলার ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য এবছরের শুরুতেই জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বাধ নির্মাণে আমি বারবার তাগাদা দিয়েছি। কিন্তু গুরুত্ব দেননি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। এমন ভয়াবহ অকাল বন্যার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করেন তিনি।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম জানান, স্থায়ীভাবে এ বাধটি নির্মাণের জন্যে আগামী জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পানি বাধ ছাপিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্রাথমিকভাবে নির্মিত মাটির বাধটি ভেঙ্গে যায়।
এ বছর লাখাই উপজেলায় মোট ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিই পানিতে তলিয়ে যায়। এসবের বেশির ভাগই সুদের উপর টাকা এনে চাষাবাদ করেছিলেন অনেক কৃষক। এখন সে টাকা কি করে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে হতাশার শেষ নেই তাদের। ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সরকারের কাছে দাবী জানান তারা।
Related News
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সবজি ব্যবসায়ী মো. মকসুদ আলী (৩৫) শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর এলাকায়Read More
হবিগঞ্জে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৫৫ বিজিবির অভিযানে কাভার্ড ভ্যানসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি পণ্যRead More



Comments are Closed