কওমি সনদের পরীক্ষা শুরু ১৫ মে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষার দিন ঠিক করা হয়েছে। আগামী ১৫ মে থেকে অভিন্ন প্রশ্নে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য ১১ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত ১৩ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান করা হলো। কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এই সমমান দেওয়া হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সমমান দেওয়ার লক্ষ্যে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি (পদাধিকার বলে) ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। রবিবার (১৬ এপ্রিল) বৈঠকে বসে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এই কমিটি।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ কমিটি সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলে বিবেচিত হবে। কমিটির নিবন্ধিত মাদ্রাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমমান বলে বিবেচিত হবে। এ কমিটির অধীনে ও তত্ত¡াবধানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটি সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল ও সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপকমিটি গঠন করতে পারবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়গুলো অবহিত করবে কমিটি।
কওমি মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বেফাকসহ ছয়টি বোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিসসহ বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষাগুলো হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৩ হাজার ৯০২টি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মোট মাদ্রাসার মধ্যে প্রায় এক হাজার মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস পড়ানো হয়। কওমির সর্বোচ্চ এই স্তরে মূলত হাদিসের প্রধান ছয়টি গ্রন্থ (সিহাহ সিত্তা) এবং হাদিস-সংক্রান্ত আরও দুটি কোর্স পড়ানো হয়। মূলত হাদিস হলেও এর ভেতরে কোরআনের বিভিন্ন অংশের তফসির, ফিকাহও চলে আসে। কোর্সটি এক বছরের।
সমমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর সিলেবাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুই সেমিস্টার মিলে ১০টি বিষয় শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়। এখানে পবিত্র কোরআনের তাফসির, উলুমুল কোরআন (সায়েন্স অব দ্য কোরআন) ও হাদিস শরিফের বাইরে ‘টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ মেথোডলজি’ এবং ‘ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ফিলোসফি অব রিলিজিয়ন অ্যান্ড কমপ্যারেটিভ রিলিজিয়ন’ নামে দুটি কোর্স পড়ানো হয়। অন্যদিকে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সাধারণ ধারার মাদ্রাসাগুলোতে কামিল হলো মাস্টার্স সমমানের।
Related News
১৯ মার্চ থেকে শুরু হবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭Read More
একাদশে ভর্তি: একজন শিক্ষার্থীও পায়নি সিলেটের ১০ কলেজ, আসন পায়নি ৪৫৫ জন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে একজন শিক্ষার্থীও না পাওয়া কলেজের সংখ্যা বাড়ছে। এবছরওRead More



Comments are Closed