Main Menu

ফিরেছেন আতিয়া মহলের ভাড়াটে বাসিন্দারা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের দক্ষিন সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহলের ভাড়াটে বাসিন্দারা ফিরেছেন। তবে কেউ থাকছেন না, মালামাল নিয়ে ঘর ছাড়ছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল সোয়া দশটার দিকে পুলিশ তালিকা ধরে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় ভাড়াটেদের। যার যার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেই মেলাতে থাকেন মালামালের হিসাব।
২৩ মার্চ রাতে পুলিশ এই বাসায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর গত ২৫ মার্চ সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই ভবনটির ২৮টি ফ্ল্যাটে থাকা ৭৮ বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। সে সময় বাসিন্দারা নিজেদের সব মালপত্র ফেলে আসেন বাসার ভেতরে।
জঙ্গি বিরোধী অভিযানের ১৭দিন পর মঙ্গলবার সকালে আতিয়া মহলের ভাড়াটিয়াদের কাছে নিজেদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। পাঁচতলা এই ভবনের নিচ তলায় লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা। ফলে নিচের দুটি তলার ফ্ল্যাটগুলো সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া উপরের তিনটি তলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেমন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়নি সেখানকার বাসিন্দাদের।
জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিল ঠিক তার বিপরীত দিকের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া পিয়ালী চৌধুরী। তার ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে প্যারা কমান্ডোরা ভবনে প্রবেশ করেছিল। ফলে বাসায় কোন মালামাল অবশিষ্ট নেই। কেবল ছাই আর আসবাবপত্রের পুড়ে যাওয়া অংশ বিশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
একই ভাবে নিচ তলায়ই আরেকটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটে পশু চিকিৎসক শ্যামসুন্দ ঘোষ। তিনি বলেন, সারাজীবন রোজগার করে যা কিছু গড়েছিলাম তার সব শেষ হয়ে গেছে। কিছুই পাইনি। বাকী জীবন রোজগার করেও আর এগুলো গড়া যাবে না।
দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা গৃহিনী শিরীন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার কোনো জিনিস পাইনি। ফ্রিজ টিভি সব ধ্বংস হয়ে গেছে। বিছানার তোষকের তলা থেকে টাকা নিয়ে গেছে। মাটির ব্যাংক ছিলো সেটা কেটেও টাকা নিয়ে গেছে। মানিব্যাগ ফ্লোরে পড়ে আছে, কিন্তু ভেতরে কোনো টাকা নেই। প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিলো এগুলোও নেই। আমি একেবারে নিংস্ব হয়ে গেছি।
তবে উপরের তলার ফ্ল্যাটগুলোতে থাকা বাসিন্দারা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাদের অনেকেই নিজের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিস ফিরে পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর অনেক শঙ্কা শেষে এগুলো ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।
৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আমার বাসায় সবকিছু পেয়েছি। তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। আমি খুবই খুশি, সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
এদিকে, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ না থাকায় বর্তমানে বাসযোগ্য নয় ভবনটি। ফলে সকাল থেকেই ভাড়াটিয়ারা নিজেদের আসবাবপত্র আতিয়া মহল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন। অনেকেই এরমধ্যে খুঁজে নিয়েছেন নতুন বাসা।
ভবনটির মালিক উস্তার আলি জানান, অভিযানে ভবনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সংস্কার না করা পর্যন্ত সেটি বাসযোগ্য নয়। ফলে ভাড়াটেরা বিকল্প বাসস্থানে চলে যাচ্ছেন।
মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, সোমবার র‌্যাব অভিযান শেষে ভবনটিকে ঝুঁকিমূক্ত ঘোষণার পর আজ আমরা তালিকা দেখে সকল ভাড়াটিয়াদের ভেতরে পাঠিয়েছি। তাদের নিজেদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, ভবনটি বিধ্বস্ত থাকায় এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এখনই কেউ এখানে থাকতে পারবেন না। তারা নিজেদের মালপত্র নিয়ে যেতে পারবেন।
অনেকের টাকাপয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়া প্রসঙ্গে খায়রুল ফজল বলেন, নিচ তলায় তো আর কিছু পাওয়ার কথা নয়। তবে উপরের তলাগুলো থেকে কিছু খোয়া যাওয়ার সুযোগ নেই। এমন প্রশ্ন উঠতে পারে ভেবে আমি এখন পর্যন্ত ভবনের ভেতরে কোনো পুলিশ ঢুকতে দেইনি। র‌্যাব ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়ার পরই ভাড়াটিয়াদের ডেকে এনেছি। তারা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পর আমরা ঢুকবো। তিনি বলেন, তারপরও কারো কিছু হারিয়ে গেলে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা খুঁজে দেখবো।
প্রসঙ্গত, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল আতিয়া মহলে অপারেশন টুয়াইলাইট পরিচালনা করে। ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় অপারেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।
অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয় বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়। এর মধ্য থেকে সোমবার এক নারীসহ দুই জঙ্গির লাশ উদ্ধার করা হলেও বাকি দুই জঙ্গির শরীরে ‘সুইসাইড ভেস্ট’ লাগানো থাকায় তাদেরকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে অভিযানের ছয়দিন পর সোমবার ওই দুইজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

Share





Related News

Comments are Closed