Main Menu

গোলাপগঞ্জে পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের সুখ ও স্বপ্ন

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ থেকে: সিলেটের গোলাপগঞ্জে সর্ব বৃহত্তর হাকালুকির হাওর, ধামড়ির হাওর ও বাঘার হাওর সহ ছোট বড় প্রায় ১৫/২০টি বিলে থাকা মাছ, ইরি-বুরো ধান ও ফসলের জমি তলিয়ে গেছে বন্যার অথৈই পানিতে। এসব ফসল হারিয়ে কৃষকদের চোখেমুখে নেমে এসেছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। এতে প্রায় ১০কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা করেছেন স্থানীয় লোকজন। অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকায় রাস্থাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে রয়েছেন শত শত মানুষ। অনেক কাচা ঘর বাড়ি মাটিতে মিশে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন অসহায় লোকজন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সবচেয়ে দুর্গোম অঞ্চল শরিফগঞ্জ, বাঘা ও ভাদেপাশা ইউনিয়নের ১৫/২০ টি গ্রামের লোকজন রয়েছেন পানিবন্ধি অবস্থায়। এছাড়াও উপজেলা সদর, ঢাকাদক্ষিণ, ভাদেশ্বর, লক্ষণাবন্দ, লক্ষিপাশা ও সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্থাঘাট তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। বাঘা হাওর, ধামড়ির হাওর, লম্বাবিল, গাংগুলি জলকুঞ্জ, ধলিয়ার বিল, চিকনহাটির বিল, নিমের বিল, ছাতাছুড়া, নিনকুড়ি, পলভাংরা, চাতলাবিল, মাইছলার বিল, হাতকুড়ি, হুআল্লার বিল ও ধুদাই বিলসহ ২০/৩০ বিল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে পানিতে।
ভাদেশ্বরের মীরগঞ্জ বাজার, নিয়াগুল, কাটাখালির পার, পাতন ও হাওরতলা এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।ঔ এলাকার কাচা ঘর বাড়ি বিধ্বস্থ ও ছাড়াও অনেক রাস্তাঘাট চলে গেছে পানির নিচে। মীরগঞ্জ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী নুরুল আম্বিয়া জানান, টানা বর্ষণে ঔ সব এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বাঘার পূর্বগাও, এখলাছপুর, উত্তর গাও, কান্দিগাও, কালাকোনা, মুল্লাকোনা, রামগঞ্জেও ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। পূর্বগাও এলাকার শাহবাজ মিয়া জানান, টানা বর্ষণে ঔ এলাকার ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার লোকজন। উত্তরগাঁও এলাকার গৌছ আহমদ জানান, ঔ সব এলাকারর পানি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে মানুষের দূর্ভোগ। এছাড়াও তাদের এলাকার একমাত্র খেয়াঘাটও ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তিনি। এছাড়া বাঘা মাদ্রাসা, ইউনিয়ন অফিস সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। রামগঞ্জ এলাকার তারেক আহমদ জানান, বাঘা মাদ্রাসা ঘাট থেকে কালাকোনা রামগঞ্জ হয়ে বানমুটি ইটকোলা পর্যন্ত রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শত শত লোকজন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি কাচা ঘরবাড়ি পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
শরিফগঞ্জ এলাকার কালিকৃঞ্চ পুর, ইসলাম পুর, রাংজিয়ল, নূরজাহান পুর, মেহেরপুর, পনাইর চক ও খাটকাই সহ ৬/৭ টি গ্রাম তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। ঔ এলাকার বাসিন্দা কবির আহমদ জানান, অব্যাহত বৃষ্টির ফলে ঔ এলাকার আমন, বুরো সহ কয়েক একর ফসলি জমি এখন পানির নিচে। এছাড়া এসব এলাকায় গত এক সপ্তাহ যাবত বিদুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে ফ্রিজে রাখা মাছ মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
সদর ইউনিয়নের রাণাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। স্থানীয় লোকজন বলছেন এ সীমানা প্রাচীরটি নদীগর্ভে চলে গেলে স্কুল ভবণ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঔ স্কুল পরিদর্শণে যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি ) সৈয়দ আমিনুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। স্কুলের শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন জানান, স্কুল পরিদর্শণ করে সীমানা প্রাচীর রক্ষায় কর্তৃপক্ষ আশ্বাস প্রদান করেছেন।
অপরদিকে পৌর এলাকার সরসতি কামারগাও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে গোলাপগঞ্জ বাজারের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা ঠিকমত ব্যবসা করতে পারছেন না। বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল আহমদ জানান, অবিরত বৃষ্টির ফলে বাজারে পানি ঢুকে পড়েছে। দাড়িপাতন এলাকার আল জামেয়াতুল ইসলামিয়াহ দারুল উলুম গোলাগঞ্জ মাদ্রাসায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। ইতি মধ্যে পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে বারিন্দাও। ফলে মাদ্রাসায় পড়ুয়া প্রায় কয়েক’শ ছাত্র রয়েছে দূর্ভোগের মধ্যে। ক্ষেতের ফসলি জমি, মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হায় হায় করছেন কৃষকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, এখনো বন্যায় বেশ বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কিছু এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকার সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed