Main Menu

গোয়াইনঘাটে বোরো ফসল পানির নীচে, ৮শ’ বাড়ি বিধ্বস্ত

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে গোয়াইঘাট উপজেলার বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও নানা সমস্যায় পড়েছেন গোয়াইঘাট বাসী।
প্লাবনের পানিতে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর বোরো ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৮ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তাছাড়াও এই প্লাবনে গৃহপালিত গবাদি পশু ও পুকুরে চাষকৃত মাছ প্লাবনের পানিতে ভেসে গেছে। এখন পানিবন্ধী অবস্থায় জীবনযাপন করছেন কয়েক হাজার মানুষ। তাছাড়া, গোয়াইঘাটের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মুল হাতিয়ার দেশের অন্যতম পাথর কোয়ারী বিছনাকান্দি ও জাফলং পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী।
জানা যায়, গোয়াইঘাটের ৯টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৩শত ২০ হেক্টর বোরো ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা । ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক কৃষক ধান চাষ করেছিলেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন সরকারী অনুদান ও বিত্তশালীদের সাহায্য ছাড়া জীবন ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এলাকার এমন কঠিন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্স থেকে কোন সহযোগিতা না পেয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি সুশীল সমাজের অনেকে গোয়াইঘাট উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহিৃত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের তালিকা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত বন্যার পানি সরে গেলে পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা আন্তরিক রয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন বলেন, বন্যা কবলিত এলাকাগুলি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বন্যায় গোয়াইনঘাটে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর বোরো ফসলী জমিসহ ৮ শতাধিক ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র প্রদান করেছি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেছেন, দ্রুত গোয়াইনঘাট উপজেলাকে দূর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

Share





Related News

Comments are Closed