আতিয়া মহলে ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ সমাপ্ত ঘোষনা
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের দক্ষিন সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে অপারেশন টোয়ালাইট এর সমাপ্তি ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার রাত ৮টায় জালালাবাদ সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন সেনা সদর দপ্তরের প্রতিনিধি ও সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সোয়াতের সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযানে আটক জঙ্গিদের কাছে থেকে তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট শিববাড়িতে একটি আস্তানার খবর পায় আইন শৃংখলা বাহিনী। ২৩ মার্চ মধ্যরাতে আতিয়া মহল নামের দুটি বাড়ি ঘিরে রাখে আইন শৃংখলা বাহিনী। ২৫ মার্চ শুক্রবার ভোররাতে বোমা বিষ্ফোরনের মাধ্যমে সেখানে জঙ্গি আস্তানার চুড়ান্ত অবস্থান বুঝা যায়।
অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা সাথে সাথে নিচ তলার ছয়টি ফ্ল্যাট বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় এবং মূল প্রবেশ পথের ভবনের কলাপসিবল গেইটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। একইসাথে ভবনটি সকল দিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়।
তিনি বলেন, পাঁচ তলা বাড়িটির প্রতি তলায় ৬টি করে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট আছে। ঘটনার সময় ২৮টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছিলেন। জঙ্গিরা পুলিশ বাহিনীর উপস্তিতি বুঝতে পেরে তাদেরকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারে।
ফখরুল আহসান বলেন, পুলিশ বাহিনী জঙ্গিদের সক্ষমতা ও ২৮টি পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে সোয়াতের সাহায্য চায়। এসময় ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে নিজ নিজ ফ্ল্যাটে অবস্থান করে। জঙ্গিরা তাদের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং ভবনের মূল ফটকে বিস্ফোরক স্থাপন করে। এমনকি একটি ফ্রিজ ও মোটরসাইকেলেও বিস্ফোরক লাগিয়ে রাখে তারা। পুরো ভবনের সিঁড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক লাগিয়ে বিপজ্জনক করে তোলা হয়।
তিনি বলেন, সোয়াত সদস্যরা ২৪ মার্চ আনুমানিক বিকাল ৪টার সময় অপারেশন এলাকায় উপস্থিত হন। সোয়াত সদস্যরা তাদের পর্যবেক্ষণ, পরিকল্পনা ও বিচার বিশ্লেষণ শেষে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, বিস্ফোরণ ঝুঁকি ইত্যাদি বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর সহায়তা চায়।
ফখরুল আহসান আরো বলেন, সেনাবাহিনী অপারেশনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও বিশেষায়িত কমান্ডো দল পরদিন অভিযান শুরু করে। জানা যায়, ভবনের নিচ তলায় তিন জন পুরুষ ও একজন নারী জঙ্গি বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ অবস্থান করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার আলোকে সেনাবাহিনী অপারেশন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। অপারেশনের মূলত দুটি প্রায়োরিটি নির্ধারণ করা হয়। প্রথমত, ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত, জঙ্গিদের নির্মুল করা। প্রথম পর্বটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কমান্ডোরা তাদের জীবন বাঁজি রেখে ২৫ মার্চ দুপুরে ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন মহিলা ও ২১ শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এ পর্বটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তিনি বলেন, এরপর জঙ্গিদের নির্মুল করার অভিযান শুরু হয়। এ পর্বে কমান্ডোদের পাশাপাশি এপিসিসহ বিশেষায়িত অনেক সদস্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। তিন দিন একটানা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ২৭ মার্চ বিকেলের মধ্যে চার জন জঙ্গিকে নির্মুল করা হয়। মূলত ২৭ মার্চ সোমবারই অভিযান শেষ হয়। তবে আরও বিশদ তল্লাশি ও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আজকের (মঙ্গলবার) দিনটি ব্যবহার করা হয়। সোমবার দুটি মৃতদেহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি দুটি মৃতদেহ সুইসাইডাল ভেস্টসহ থাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নিরাপত্তা বিবেচনায় ও পুলিশ প্রশাসনের পরামর্শে সোমবারই সেগুলো বিস্ফোরণ করা হয়। বিস্ফোরণের আগে প্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। সকল কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার বিকেলে ভবনটি ক্রাইম সিন হিসেবে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং অপারেশন টোয়াইলাইটের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এসময় সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও পুলিশ ও র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Related News
কানাইঘাটে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, পালানোর সময় স্বামী গ্রেপ্তার
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামীRead More
কানাইঘাটে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে ফারহানা বেগম নামে গৃহবধূRead More



Comments are Closed