Main Menu

রুমা’র কারণে সন্ত্রস্ত উপশহরের ব্যবসায়ীরা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: রুমা বেগম নামের এক মহিলা ব্যবসায়ীর কারণে গোটা উপশহরের ব্যবসায়ীরা সন্ত্রস্ত। উপশহরের ব্যবসায়ীরা আগে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি। কিংবা এরকম অশান্তিও বিরাজ করেনি। এখন রুমা বেগমের কারণে উপশহরের গোটা ব্যবসায়ী সমাজের মনে অশান্তি দানা বেঁধেছে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শাহজালাল উপশহর ব্যবসায়ী সমিতি (ই ও এফ বøক)-এর নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহজালাল উপশহর ব্যবসায়ী সমিতি (ই ও এফ বøক)-এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহিবুর রহমান মিছলু। তিনি বলেন, ‘সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর ব্যবসায়ী সমিতির ই ও এফ বøক শাখার ব্যবসায়ীরা সুনামের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। সম্প্রতি আমরা কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। রুমা বেগম নামের এক মহিলা আমাদের ব্যবসায়ীদের এই সমস্যার মুখোমুখি করেছেন। তিনি মিথ্যাচার করেই ক্ষান্ত হননি, মোবাইল ফোনে নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। অথচ রুমা নামের ওই মহিলাকে আমরা বোনের মতো মনে করতাম। তিনি উপশহরে দোকান খুলে ব্যবসা করতেন। আমরাই তাকে আগলে রেখেছিলাম। ব্যবসা করতে তার যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে আমরা সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম। কিন্তু তার কাছ থেকে আমরা বিনা কারণে দুর্ব্যবহার, হুমকি পেয়ে যাচ্ছি। এলাকার মানুষও তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।’
সৈয়দ মুহিবুর রহমান মিছলু বলেন, ‘‘কয়েক বছর আগে উপশহর এলাকার ই-বøকে বাসা ভাড়া নেন রুমা বেগম। এরপর তিনি ওই এলাকায় ‘তালহা ফ্যাশন’ নামে টেইলার্সের দোকান খুললে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ে। রুমাকে সবাই মিলে ব্যবসায়ীদের দলভুক্ত করে তাকে আমাদের সংগঠনের কার্যকরী কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা করা হয়। এরপর রুমা একই এলাকায় ‘ওয়ান টু হান্ড্রেড’ নামে একটি ব্যবসা খুলেন।’
রুমা বেগম ব্যবসায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যে অভিযোগে’ থানায় জিডি করেছিলেন উল্লেখ করে মুহিবুর রহমান মিছলু বলেন, ‘২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল রুমার দোকানে গিয়েছিলেন এক মহিলা। ওই মহিলাকে দোকানের ভেতরেই নাজেহাল করা হয়। চিৎকার শুনে ব্যবসায়ীরা গিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি সমাধান করতে বিচারে বসেন। কিন্তু বিচারেই রুমার ছেলে তাহমিদ ওই মহিলার মাথায় কাঠের রোল দিয়ে আঘাত করে। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ ঘটনার পরের দিন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা ‘দোকানের মহিলা কারিগরকে উত্যক্ত করেছেন’ মর্মে রুমা শাহপরান থানায় জিডি করেন। তবে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও শাহপরান থানার ওসি তদন্ত করে রুমার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাননি।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘‘গত ফেব্রæয়ারি মাসে ব্যবসায়ী সমিতির কাছে রুমার বিরুদ্ধে উপশহরের বাসিন্দা শামীম ইকবাল, নাহিদুর রহমান সাব্বির, চঞ্চল ও সুমন অভিযোগ করে বলেন, ‘রুমা তাদের বিরুদ্ধে নানা অনলাইন মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে খবর প্রচার করছে।’ এরপর আমরা বৈঠকে বসে অভিযোগের পর্যালোচনা করি এবং রুমাকে ডাকি। বৈঠকের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়ী হিসেবে রুমাকে সহযোগিতা করা। কিন্তু তিনি তাতে সাড়া না দিয়ে ব্যবসায়ীদের বৃদ্ধাঙ্গুল প্রর্দশন করে বলেন, ‘আমি দেখতে চাই কার দৌড় কতখান।’ রুমার বিতর্কিত কর্মকান্ড থেকে সংগঠনকে রক্ষা করতে গত ২০ ফেব্রæয়ারি ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা তাকে বহিষ্কার করেন।’’
মুহিবুর রহমান মিছলু বলেন, ‘রুমার অভিযোগ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। রুমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশেই আমাদের ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়। আমরা কোনো ব্যবসায়ীই জানতে পারলাম না তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। জানলে তো আমরা এগিয়ে যেতাম। রুমা হামলার অভিযোগ করেছেন শামীম ইকবালের বিরুদ্ধে। উপশহরের বাসিন্দা শামীম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একটি সাজানো ঘটনায় শামীমকে টেনে এনে রুমা কী স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন সেটি আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা বলতে পারিম শামীম ইকবাল কখনো ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি দূরের কথা, দুর্ব্যবহারও করেননি। বরং ব্যবসায়ীদের সুখে-দুঃখে এগিয়ে এসেছেন।’
রুমা বেগম ফোনে ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দিচ্ছেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘রুমা গত সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করার পর অভিযোগের ব্যাপারে পাল্টা বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা ব্যবসায়ীদের কাছে ফোন করেছেন। ব্যবসায়ীরা যা সত্য তা বলেছেন। পত্রিকায় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ছাপা হওয়ার পর রুমা আরও ক্ষেপে উঠেন। তিনি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহিবুর রহমান মিছলুকে গত মঙ্গলবার রাতে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি প্রাণনাশেরও হুমকি দেন। এতে করে ব্যবসায়ীরা সন্ত্রস্ত। উপশহরের ব্যবসায়ীরা আগে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি। এরকম অশান্তিও বিরাজ করেনি। এখন রুমা বেগমের কারণে উপশহরের গোটা ব্যবসায়ী সমাজের মনে অশান্তি দানা বেঁধেছে। আমরা এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহিবুর রহমান মিছলু জানান, প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করায় রুমা বেগমের বিরুদ্ধে থানায় জিডি দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- শাহজালাল উপশহর ব্যবসায়ী সমিতি (ই ও এফ বøক)-এর সভাপতি হাজী শামসুল হক, সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ইসলাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম, শাহজালাল উপশহর ব্যবসায়ী সমিতি সি ও ডি বøক শাখার সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সহসভাপতি কয়েছ চৌধুরী, এ ও বি বøক শাখার সাধারণ সম্পাদক আলীম উদ্দিন মান্নান, মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed