Main Menu

ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুরে ভোট গ্রহণ শুরু

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের ওসমানী নগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে। সকাল থেকে আবহাওয়া কিছুটা গুমোট থাকায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে। বেলা ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। আজ এ দু উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি অফিস আদালত ও ব্যাংক বন্ধ রয়েছে।
প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেটের নবগঠিত ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১ লাখ ২৯ হাজার ৮ শত ৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আজ সকাল ৮ থেকে উপজেলায় ৫২টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ। নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে চেয়াম্যান পদপ্রার্থী ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ২ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৪ জন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৮শত ৫৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯২ হাজার ৭শ ৯৯ জন এবং মহিলা ভোটার ৬৪ হাজার ৩শ ৪৭ জন। উপজেলায় ৫২টি ভোটকেন্দ্রের ৩১৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২০টি কেন্দ্রকে ঝুঁঁকিপূর্ণ ও ১০টি কেন্দ্রকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনে তিনটি পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে-আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকায় আতাউর রহমান, বিএনপি থেকে দলীয় প্রার্থী ময়নুল হক চৌধুরী ধানের শীর্ষ প্রতীকে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু ঘোড়া প্রতীকে, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল নিয়ে শিব্বির আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। থানার ওসি আবদুল আউয়াল চৌধুরী জানান, নির্বাচনে সারা উপজেলা জুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। প্রতিটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১জন এসআই’র নেতৃত্বে ১২জন পুলিশ, ২জন পিসি এপিসি ও অস্ত্র সহ ১০জন আনসার থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে ১জন এসআই’র নেতৃত্বে ১০জন পুলিশ, ২জন পিসি এপিসি ও অস্ত্র সহ ১০জন আনসার। প্রতি ২টি কেন্দ্রের জন্য থাকবে একটি মোবইল টিম। প্রতি ৪টি কেন্দ্রের জন্য থাকবে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে প্রতিটি ইউপিতে থাকবে একটি করে মোবাইল টিম। তাজপুর, গোয়ালাবাজার, দয়ামীর, কুরুয়া, সাদীপুর, উমরপুর, বেগমপুর, বুরুঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জন্য মোতায়েত থাকবে ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন র‌্যাব, ৪ প্লাটুন আমর্ড পুলিশ ও ২ প্লাটুন স্বসস্ত্র আনসার ব্যাটেলিয়ান। প্রতিটি ইউপিতে থাকবেন একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, প্রতি ২টি ইউপিতে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৫০জনের একটি টিম থাকবে। ডিবি, ডিএসবি, এনএসআই, ডিজিএফআই ও র‌্যাবের গোয়েন্দা সহ সাদা পোষাকে বিপুল পরিমাণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

এদিকে, একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলার মোট ভোটার এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৯ জন ভোটার ৮৭ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এর মধ্যে পুুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৬শ ৯২ ও মহিলা ভোটার ৮৩ হাজার ৮শ ৭জন। মোট ৮৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোববার প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সকল সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামান জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ ৮শ ১৩জন, বিজিবি-৬০জন, র‌্যাব-৩২জন, আনসার ও ভিডিপির ১ হাজার ৪৪ জন নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও পুলিশ ও র‌্যাবের সাদা পোষাকে বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবেন। ৯টি স্টাইকিং ফোর্স ৩১টি মোবাইল টিম নির্বাচনী এলাকায় নিয়োজিত থাকবেন।
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৩ জন প্রার্থী। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ৫ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৩জন প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে যারা লড়ছেন তারা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা ( আনারস) ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী জেলা বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান (ধানের শীষ)।

Share





Related News

Comments are Closed