বাসিয়া তীরের অবৈধ স্থাপনা রক্ষার পায়তারার অভিযোগ
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া খড়স্রোতা বাসিয়া নদীর পুন:খনন কাজ চলাকালে উপজেলা সদর এলাকায় নদীর (বাসিয়া) তীরে গড়ে উঠা অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা রক্ষা করতে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সিলেট’র কর্মকর্তারা পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে ‘বাসিয়া নদী’র পুনঃখনন কাজ শুরু হলেও স্থানীয় প্রশাসন এব্যাপারে কিছুই জানেন না, এমনকি লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে বাসিয়া নদী পুনঃখননের জন্য নদীর সীমানা নিধারণ করা হয়। সেই সীমানা নির্ধারণের খুঁটি এখনও বিদ্ধমান রয়েছে। কিন্তু ১৫ ফেব্রয়ারী স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়েই ঢাকা থেকে বিশ্বনাথে এসে ‘বাপাউবো’র ট্রাস্কফোর্স দলের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে নদী সার্ভে করেন বাপাউবোর কর্মকর্তারা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিষদের সামন থেকে (পূর্ব দিক থেকে) প্রথমে ৩৩ মিটার প্রস্থ ধরে ৭ কিলোমিটার অংশে বাসিয়া নদী পুনঃখননের জন্য সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও ট্রাস্কফোর্স দলের সার্ভের সময় নদীর পূর্ব দিক (উপজেলা পরিষদের সামনের অংশ) থেকে প্রায় সাড়ে ৩শত মিটার অংশ ছেড়ে দিয়ে সার্ভে করা হয়। অথচ ওই ছেড়ে আসা অংশেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি অবৈধ স্থাপনা। যেগুলোর বেশির ভাগই দ্বিতল-তৃতল ভবন। উভয় সার্ভের সময়ই উপস্থিত ছিলেন বাপাউবো সিলেট’র উপ-প্রকৌশলী দিপক চন্দ্র দাশ।
এদিকে বাসিয়া নদীর তীরে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ১৭২টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তা উচ্ছেদের জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণের জন্য চলতি মাসের আইন-শৃংঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও এর কোন অগ্রগতি হয়নি।
পাউবো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা রক্ষা করার জন্যই নদীর পূর্ব দিকের সাড়ে ৩শত মিটার ছেড়ে ট্রাস্কফোর্স দলের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে সার্ভে করেছেন বাপাউবো সিলেট’র কর্মকর্তারা। এরপূর্বে অবৈধ স্থাপনাগুলো রক্ষা করার জন্যই গোপনে নদীর প্রস্থের মাপ কমিয়ে এনেছেন সেই কর্মকর্তারা। এর ফলে বর্তমানে সেই মাপ কোথাও ২০ মিটার, কোথাও ২৫ মিটার এবং কোথাও ৩১মিটার নিধারণ করা হয়েছে।
সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বাপাউবো সিলেট’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে অবহিত করেই নদী পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। আর কাজের ডিজাইন অনুযায়ীই নদী পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করা হবে। ওই ৩শত মিটার (ছেড়ে আসা অংশ) পূর্বে সার্ভে করা হয়েছিল, যার পরিমাপ আমাদের কাছে রয়েছে। এজন্য শুধু নতুন ৭ কিলোমিটার অংশে সার্ভে করা হয়েছে। তাই ৭ কিলোমিটারের সাথে ওই ৩শত মিটার অংশেও পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করা হবে। কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
নদীর পুনঃখনন কাজ শুরুর বিষয়টি জানা নেই, কেউ লিখিতভাবেও জানাননি বলে দাবি করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed