Main Menu

সিলেটে প্রজেক্ট লন্ডন-১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন স্থিরচিত্র প্রদর্শনী শুরু

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিলেত প্রবাসী বাঙালিদের অবদান তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘লন্ডন ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধে বিলেত প্রবাসী বাঙালির গৌরবগাঁথা’ শীর্ষক তিনদিনব্যাপী স্থিরচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় নগরীর রিকাবীবাজারস্থ মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়াম হলে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এ.কে আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সামসুদ্দিন আল মানিক।
প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের বাইরে সুদূর প্রবাসে থেকেও বহু মুক্তিকামী মানুষ বাংলাদেশের পক্ষে কাঁপিয়েছেন বিলেতের রাজপথ। প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বের বিক্ষুদ্ধ, প্রতিবাদী দিনমালা থেকে লন্ডন হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন-পুরো সময়কাল নিয়ে ‘লন্ডন-১৯৭১’ শিরোনামের আলোকচিত্র ও ঐতিহাসিক স্মারক প্রদর্শনীর আয়োজন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বহু অজানা ইতিহাসের সরব সাক্ষী লন্ডন। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি পর্ব থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ ৯ মাস বিলেতের প্রতিটি শহরে মুক্তিকামী বাঙালি জোরালো দাবি তুলেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের সমর্থনে। বাঙালিদের পাশাপাশি ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্ব জনমত গঠনে ব্রিটিশ এমপি, রাজনীতিক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরাও রেখেছেন অনন্য ভ‚মিকা।
একাত্তরের সেই সব উত্তাল দিনগুলোতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিলেতের মাটিতে সংঘটিত আন্দোলন সংগ্রামের ঐতিহাসিক দূর্লভ ছবিগুলো নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তৎকালীন সময়ের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
‘প্রজেক্ট লন্ডন- ১৯৭১’-এর প্রেসিডেন্ট ফজলুল কবির তুহিন এর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. মুরাদ হোসেন, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ প্রধান কনজেল রবিন্স ও অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমদ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ ও বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট এর মেম্বার ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রজেক্ট লন্ডন-১৯৭১ এর সমন্বয়ক উজ্জল দাশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সামসুদ্দিন আল মানিক বলেন, পাকিস্তানপ্রেমী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেছেন। তারা বার বার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানি রাষ্ট্রে পরিণত করার। তিনি জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম হোতা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানপ্রেমীদের দেশে মর্যাদার আসনে পুনর্বাসিত করেছেন। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃত করে কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। দন্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বণ্ঠন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের অসম্পূর্ণ বিচার দ্রæত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
ড. আব্দুল মোমেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী বাঙালিরা বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনের পাশাপাশি যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাস কখনো ভুলার নয়। তিনি বলেন, প্রবাসীদের স্বার্থবিরোধী কোনো আইন দেশে প্রণয়ন না করার জন্য সরকারের আইনমন্ত্রীকে বিশেষ অনুরোধভাবে করা হয়েছে। আইনমন্ত্রীও এ ধরণের কিছু করা হবে না বলে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফজলুল কবির তুহিন বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যারা প্রবাসে জনমত গঠন ও আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন এবং তাদের কষ্ঠার্জিত অর্থ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সহায়তা করেছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা। তাদের তালিকা প্রণয়ন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed