Main Menu

ছাতকে দখলের কবলে রত্মা খাল

Manual6 Ad Code

কামরুল হাসান সবুজ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতকে সুরমা নদীর অন্যতম শাখা রত্মা খাল, জোরপূর্বক বাঁধ এবং বাড়ি-ঘর নির্মান করে ধ্বংস করে দিচ্ছে এক শ্রেনীর ভূমি জবর-দখলরা। এদের বাঁধা কিংবা নিষেধ দেয়ার যেন কেউ নেই। এদের বিরুদ্ধে কোন হস্তক্ষেপও গ্রহণ করছেন না সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের হাইলকেয়ারি গ্রাম ঘেসে হাজারো বছরের ঐতিহ্য লালন করছে এ খালটি।
এলাকা ঘুরে জানা যায়, সুরমা নদীর একটি সংযোগ শাখা বটের খাল নদী। আর এ বটের খাল নদী থেকে সংযোগ পেয়েছে ঐহিত্যবাহী রত্মা খাল। এক সময় ছোট-বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকায় এলাকার মানুষসহ মালামাল যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হত খালটি। একদিকে ভুমিখেকোদের অপতৎপরতা অপরদিকে আবহাওয়ার বৈরিতার প্রভাবে আপন মহিমা হারাতে চলেছে খালটি । এতে খালটি এখন নালায় পরিনত হয়ে ধ্বংস হতে চলেছে। হেমন্তে পানির অভাবে খালের তীরবর্তী কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। মাছও ধরতে পারছে না আগের মতো। অপর দিকে অল্প অল্প করে দখলের নেশায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল।
গত ২৯ জানুয়ারী রোববার সরকারি মালিকানাধিন রত্মা খাল রকম ভূমিতে স্থানীয় মল্লিকপুর গ্রামের মৃত সিরাম উদ্দিনের ছেলে আবদুল গফুর কর্তৃক নৌকা চলাচলসহ পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ছাতক সুনামগঞ্জ বরাবরে এলাকাবাসীর পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হাইলকেয়ারি গ্রামের ওয়াহাব আলীর ছেলে সেলিম আহমদ। ২১ জনের স্বাক্ষরিত পৃথক আরো একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ছাতক থানায়। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওইদিন বিকেলে স্থানীয় পীরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বরত অফিস সহায়ক ইমান আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে প্রেরণ করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৯১ নং জেলএল স্থিত মল্লিকপুর মৌজার ১নং খাস খতিয়ানে ৬২০দাগে নদী রকম ভূমিতে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে ভরাট করে আসছেন আবদুল গফুর। পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সহ বর্ষা মৌসমে নৌকা চলাচলের মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি করছেন তিনি। নদী ভরাট হলে এলাকায় চাষাবাদ উপযোগি জমির সেচ কাজ মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানের বাঁধা-নিষেধও মানছেন না দখলকারি। এছাড়া নদীর প্রবাহ ব্যবহার রাখার স্বার্থে বাচাও নদী বাচাও মানুষ বাচাও দেশ শ্লোগানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে নদী কিংবা নদী তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সু-নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ কারণে অবৈধ দখলকারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র দাশ।
জালালপুর গ্রামের হাজী মনোয়র আলী, হাইলকেয়ারি গ্রামের সমশর আলী, আবদুল কাহার, মংলা মিয়া, মরম আলী, কাটালপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন, মৈশাপুর গ্রামের মাস্টার সাবুল মিয়া, নোয়াগাঁও গ্রামের কালা মিয়াসহ এলাকার আরো একাধিক ভুক্তভোগিরা জানান, সুরমা নদীর একটি শাখা বটের খাল হয়েছে। বটের খাল থেকে তেতইখালী খালে যুক্ত হয়ে মিলিত হয়েছে রত্মা নদীর সাথে। রত্মা নদী খালটি স্থানীয় মৈশাপুর, জালালপুর, নোয়াগাঁও, গর্ন্ধবপুর, কাটালপুর, হাইলকেয়ারি, পীরপুর গ্রামে গিয়ে দু’ভাবে বিভক্ত হয়েছে। রত্মায় এভাবে বাঁধ নির্মান করার ফলে উপজেলার কালারুকা, উত্তর খুরমা ও গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাড়ির ভিটে তৈরির মালিক আবদুল গফুর বলেন, “আমার নিজের জায়গায় মাটি ভরাটের কাজ চলছে। বরং জালালপুর থেকে হাইলকেয়ারি সহ বিভিন্ন এলাকায় খাল অবৈধ ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে”।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শেখ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ছাতকের ভূ-খন্ড বিশাল। জনবল সঙ্কটও রয়েছে। অবৈধভাবে খাল দখলকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code