Main Menu

তুরাগ তীরে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমা শুরু

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীর কাছে তুরাগ নদের তীরে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

ভারতের মওলানা ওবায়দুল খোরশেদের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার ফজর নামাজের পর ইজতেমা শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মওলানা জাকির হোসেন।

Manual5 Ad Code

ইজতেমা মাঠের দায়িত্বে নিয়োজিত মুরব্বি গিয়াসউদ্দিন জানান, আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা। এর চার দিন পর আগামী ২০ জানুয়ারী শুক্রবার শুরু হওয়ার কথা ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

Manual4 Ad Code

১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা হয়ে আসছে। চাপ কমাতে ২০১১ সাল থেকে ইজতেমাকে দুই পর্বে বিভক্ত করা হয়। তার পরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে দেশের অর্ধেক জেলা প্রথম দুই ধাপে এবং বাকি অর্ধেক জেলা পরের বছর দুই ধাপে অংশ নিয়ে আসছে।

Manual1 Ad Code

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টঙ্গীর বিভিন্ন মৌজায় ইজতেমার জন্য ১৬০ একর জমি বরাদ্দ দেন।

মুরব্বি গিয়াসউদ্দিন জানান, তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে প্রতিবছর এ ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ইজতেমায় দেশের বাইরে থেকেও অতিথিরা এসেছেন। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলিগ জামাতের সদস্যরা এসেছেন।

প্রতিবারের মতো ইজতেমা মাঠের উত্তর-পশ্চিমাংশে বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষভাবে টিনের ছাউনির মাধ্যমে পৃথক কামরা তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইজতেমা উপলক্ষে সব ধরনের সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ইজতেমা উপলক্ষে বুধবার থেকে বিআরটিসি বিভিন্ন রুটে ২২৮টি স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করেছে।

চালু করা হয়েছে বিশেষ রেল সার্ভিস।

সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড তুরাগ নদের সাতটি স্থানে ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ জানান, ইজতেমা মাঠে ১২টি নলকূপ স্থাপন করে প্রতিদিন সাড়ে তিন কোটি গ্যালনের বেশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অজু-গোসলের হাউস, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় স্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশা নিধনের জন্য ২৪টি ফগার মেশিন ও ধুলাবলি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডেসকোর টঙ্গী পূর্ব বিভাগের সহকারী উপ-প্রকৌশলী মো. হাসিবুল ইসলাম জানান, ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো গ্রিড নষ্ট হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হবে না। ইজতেমা এলাকায় চারটি স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর ও পাঁচটি ট্রলি-মাউন্টেড ট্রান্সফরমার সংরক্ষণ করা হয়েছে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান, ইজতেমাস্থলে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ফায়ারম্যানরা অবস্থান করছেন। ময়দানের প্রত্যেক খিত্তায় ফায়ার ডিস্টিংগুইশারসহ ফায়ারম্যান ও বিদেশি মেহমানখানা এলাকায় পানিবাহী গাড়ি, তিন সদস্যের ডুবুরি ইউনিট, একটি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট ও পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স থাকছে।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পারভেজ আলম জানান, নিয়মিত শয্যা ছাড়াও অতিরিক্ত শয্যা বাড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্নু গেট, অ্যাটলাস গেট, বাটা কারখানার গেট, টঙ্গী হাসপাতাল মাঠসহ ছয় জায়গায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ইজতেমাস্থলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।

“এছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে পুলিশের কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমা এলাকায় বাইনোকুলার, সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে পুলিশ, স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে।”

Manual5 Ad Code

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, আনসার ও তাবলিগ সদস্যরাও কাজ করছেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code