Main Menu

ফেঞ্চুগঞ্জে ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন, সড়কে ভাঙ্গন

ফেঞ্চুগঞ্জ সংবাদদাতা : সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারার ভাঙ্গনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নদীর তীরবর্তী ৬টি গ্রামের শত শত পরিবার। ভাঙন ধরছে সড়কেও। ভাঙনের কারণে যে কোন সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে ফেঞ্চুগঞ্জ-মানিকগঞ্জ সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার লামা গংগাপুর, উজান গংগাপুর, গয়াসি, ভেলকোনা, সুলতানপুর মানিকোনার নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ভাঙনরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতংকে রাত কাটাচ্ছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদী থেকে অবৈধভাবে ছোট বড় ড্রেজার দিয়ে বালু চুরিতে মেতে উঠায় হেমন্ত ও শীত মৌসুমে নদীর পানি কমতে শুরু করলে নদী ভাঙন দেখা দেয়।

সরেজমিনে নদী ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- কুশিয়ারা নদীর ভেলকোনা এলাকায় বিরাট আকারে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় ইতিমধ্যে নদীর তীরবর্তী অনেক ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে জমিগুলোতে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। ভেলকোনা থেকে গয়াসি, নদীর ওপর তীরের লামা গংগাপুর, উজান গংগাপুর, গয়াসি, সুলতানপুর, মানিকোনা এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরবর্তী জমিতে ছোট বড় অনেক ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মানিকোনা সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা, এতিমখানা, মসজিদসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটিও। এই সব প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ ফুট দুরে ভাঙন ধরছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ফেঞ্চুগঞ্জ-মানিকগঞ্জ সড়কেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ফেঞ্চুগঞ্জ-মানিকগঞ্জ বাজার সড়কের লামাগংগাপুর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কের ভাঙনরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করলে যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।

গংগাপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজী মোঃ নুরু উদ্দিন বলেন, কয়েক কোটি টাকা খরচ করে সড়কে পিচের কাজ চলছে। এর মধ্যে গংগাপুর এলাকায় সড়কের একটি অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শতশত যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুত সড়কের ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।

মানিকগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বাঙালী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাঙনের ব্যাপারে অবগত করার পর তারা নদী ভাঙন এলাকা ঘুরে গেছেন। ভাঙনরোধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ভাঙনের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে গেলে মানুষের দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুরে জান্নাত বলেন, নদী ভাঙনের প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুর রহমান রোমান বলেন, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধূরীসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed