Main Menu

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ৬৯ তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২০জন আহত হয়েছেন। এসময় জেলা ছাত্রলীগের মিজান ও রনি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পুরো ঠাকুরগাঁও শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বুধবার বেলা দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের ৬৯ প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে গত রোববার রাত থেকে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী মিজান গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখল করে রাখে। অফিস কক্ষ বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে বাইরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উদযাপন করা হয়।

অপরদিকে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কমিটি বুধবার সকাল থেকে প্রতিষ্ঠা বাষির্কীর প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি রনি শহরের বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করে চৌরাস্তায় পৌঁছালে বিদ্রোহী গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

পরে রনি গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখলে নিতে গেলে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ২ ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ইট পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়।

এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ব্যারিকেট দিয়ে রনি গ্রুকে সরিয়ে দিলে বিদ্রোহী গ্রুপ আবার ব্যারিকেড ভেঙে শহরের চৌরাস্তা দখলে নেয়।

স্থানীয়রা জানায়, ঠাকুরগাঁও ছাত্রলীগের দুইটি গ্রুপ আছে। এক গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন মিজান। তিনি জেলা নেতাদের দ্বারা গঠিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম এমপির ছত্রচ্ছায়ায় চলেন।
অপরদিকে, কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটির সভাপতি রনি। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের অনুসারী।

কেন্দ্র ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুর রহমান রনি জানান, আমরা ছাত্রলীগের আসল কমিটি। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো সবাইকে নিয়ে। কিন্তু বিদ্রোহী গ্রুপ আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আসতে বাধা দিলে এ সংঘর্ষ বাধে।

অপরদিকে বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি মিজান জানান, আমরা ছাত্রলীগের মাঠের নেতা কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। ওই গ্রুপের জেলা ছাত্রলীগ গঠনে কোনো অবদান নেই। আমরা দলীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছি। রনি গ্রুপের লোকজন আমাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে আমরা তাদের ধাওয়া দেই।

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই দলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed