Main Menu

সিলেটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লুৎফুর বিজয়ী

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক গণপরিষদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান।
১৫টি কেন্দ্রে আনারস প্রতীকে লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এনামুল হক সরদার কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৫৬৭ ভোট পেয়েছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার হচ্ছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরাই তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচিত করছেন। সিলেট জেলায় তাদের সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ৪শ’ ৩৭ জন।

লুৎফুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন:
অ্যাডভোকেট মোঃ লুৎফুর রহমান ১৯৪০ সালের ৮’ই ডিসেম্বর তৎকালীন সিলেট জেলাধীন বালাগঞ্জ উপজেলার বড় হাজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছৈদ উল্লাহ এবং মাতা সমিতা ভানু। ছাত্রজীবনে ১৯৬২ সালে তৎকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মাধমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। বাঙালী জাতির মুক্তি সংগ্রামের জন্য ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন, ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মাত্র ২৯ বছর বয়সে ‘বালাগঞ্জ–ফেঞ্চুগঞ্জ’ আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হোন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ মুক্তিযুদ্ধের একজন সফল সংঘটক ছিলেন, ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে হাতেলেখা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে স্বাক্ষর প্রদানকারীদের একজন। সর্বশেষ সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে সততা এবং নিষ্টার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সদালাপী, অমায়িক এই মানুষটি দলমতের ঊর্ধ্বে এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, তার কাছে কোন প্রয়োজনে কেউ আসলে কখনও জিজ্ঞেস করেননি আপনি কোন রাজনৈতিক দলের লোক, বরং জিজ্ঞেস করেছেন “আপনি কোথা থেকে এসেছেন, কি কাজে এসেছেন”। সাধ্যের মধ্যে থাকলে তাৎক্ষণিক সমাধা করার চেষ্টা করেছেন আর সাধ্যের বাইরে থাকলে পরামর্শ দিয়েছেন “আপনি অমুক জায়গায় যান আমি সুপারিশ করে দিব”। সাদা মনের নির্লোভ এই মানুষটি জীবনভর মানুষের উপকারে কাজ করে গেছেন, কিন্তু নিজের জন্য কিছুই করেননি। সিলেট শহরে আজ পর্যন্ত একখন্ড ভূমির মালিক হতে পারেননি, ভাড়া বাসায় থেকেই আজঅব্দি নিতান্তই সাদামাটা জীবনযাপন করে যাচ্ছেন!!! উনার ব্যক্তিগত কোন আয় বা আয়ের উৎস নেই, সন্তানদের আয় দ্বারাই উনি পরিচালিত হোন। বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান কিংবা সভা-সমাবেশে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নামী-দামী গাড়ি চড়ে উপস্থিত হোন, উনি তখন উপস্থিত হোন রিক্সা কিংবা সি.এন.জি অটোরিক্সা চড়ে…

একজন রাজনীতিবিদ কতটুকু সৎ, নির্লোভ ও ন্যায়বান হলে জীবনে এত বড় বড় ক্ষমতাধর পদে আদিষ্ট হবার পরও জীবনসায়াহ্ন পর্যন্ত নিজেকে সব ধরণের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে মানুষের উপকারে নিয়োজিত রাখতে পারেন। আজকালকার যুগে সততা, ন্যায়নীতির আদর্শে লালিত রাজনীতিবিদদের স্থান কেবল ইতিহাসের পাতায়, আমরা শুধু বইয়ের পাতায়-ই তাদের জীবনকথা দেখতে পাই কিন্তু এডভোকেট লুৎফুর রহমান একজন জীবন্ত ইতিহাস।

আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা কোনধরণের রাজনীতির সাথে জড়িত নই কিন্তু একজন সৎ, আদর্শবান, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদের প্রশংসা করতে কখনওই দ্বিধাবোধ করিনা তিনি যেকোন দলেরই হোন না কেন। অতি কাছে থেকে উনাকে চেনার জানার সৌভাগ্য হয়েছে বিধায় আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এই লেখা। উনার সাথে যতো জায়গায় গিয়েছি উনার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা দেখে গর্বে বুকটা ভরে উঠেছে। অর্থ, বিত্ত, প্রাচুর্যকে পায়ে ঠেলে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ ‘সম্মানটুকু’ আঁকড়ে ধরে মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় জীবনের শেষ সময় পার করছেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed