Main Menu

মরমী কবি হাসন রাজার জন্মদিন আজ

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: আজ ২১ ডিসেম্বর বিখ্যাত মরমী সাধক হাসন রাজার জন্মদিন। ১৮৫৪ সালের সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শহরের লক্ষণশ্রী’র ধনাঢ্য জমিদার পরিবারে জন্ম নেওয়া মরমী সাধক হাসন রাজা তার জীবনের বিভিন্ন সময়ে বহু গান রচনা করেছেন।
মরমীসাধনার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে জাতধর্ম আর ভেদবুদ্ধির উপরে উঠা। সকল ধর্মের নির্যাস, সকল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যই আধ্যাতœ-উপলব্ধির ভেতর দিয়ে সাধক আপন করে নেন। তাঁর অনুভবে ধর্মের এক অভিন্ন রূপ ধরা পরে- সম্প্রদায় ধর্মের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সর্বমানবিক ধর্মীয় চেতনার এক লোকায়ত ঐক্যসূত্র রচনা করে। হাসন রাজার সঙ্গীত, সাধনা ও দর্শনে এই চেতনার প্রতিফলন আছে। হিন্দু ও মুসলিম ঐতিহ্যের যুগল পরিচয় তাঁর গানে পাওয়া যায়। অবশ্য মনে রাখা প্রয়োজন, কয়েক পুরুষ পূর্বে হিন্দু ঐতিহ্যের ধারা হাসন রাজার রক্তে প্রবহমান ছিল। হাসন রাজার মরমীলোকে সাম্প্রদায়িক বিভেদের ঠাঁই ছিলো না। তাই একদিকে ‘আল্লাজী’র ইশ্কে কাতর হাসন অনায়াসেই ‘শ্রীহরি’ বা ‘কানাই’-য়ের বন্দনা গাইতে পারেন। একদিকে হাসন বলেন-
আমি যাইমুরে যাইমু, আল্লার সঙ্গে,
হাসন রাজায় আল্লা বিনে কিছু নাহি মাঙ্গে।
আবার পাশাপাশি তাঁর কন্ঠে ধ্বনিত হয়-
আমার হৃদয়েতে শ্রীহরি,
আমি কি তোর যমকে ভয় করি।
শত যমকে তেড়ে দিব, সহায় শিবশঙ্করী।
হাসনের হৃদয় কান্নায় আপ্লুুত হয়,- ‘কি হইব মোর হাসরের দিন রে ভাই মমিন’,- আবার পাশাপাশি তাঁর ব্যাকুল আকাঙ্খা প্রকাশিত হয় এভাবে,- ‘আমি মরিয়া যদি পাই শ্যামের রাঙ্গা চরণ’ কিংবা ‘দয়াল কানাই, দয়াল কানাই রে, পার করিয়া দেও কাঙ্গালীরে’। আবার তিনি বলেন, ‘হিন্দুয়ে বলে তোমায় রাধা, আমি বলি খোদা’। স্পষ্টই হাসনের সাধনা ও সঙ্গীতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পুরাণ ও ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটেছে।
হাসন রাজার গানে সহজ সরল স্বাভাবিক ভাষায় মানবতার চিরন্তন বাণী উচ্চারিত হয়েছিল। সকল ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে তিনি গেয়েছেন মাটিও মানুষের গান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ১৯২৫ সালে কলকাতায় এবং ১৯৩৩ সালে লন্ডনে হিবার্ট বক্তৃতায় হাসন রাজার দুটি গানের প্রশংসা করেছিলেন। প্রখ্যাত এই মরমী সাধকের জীবন- দর্শন ও গানের চর্চা এবং সংরক্ষণের জন্য হাসন রাজার প্রপৌত্রদের প্রচেষ্টায় তাদের বাসভবনের দুটি কক্ষে নামে মাত্র একটি মিউজিয়াম ৭ বছর আগে হলেও দর্শনার্থী- অভ্যাগতরা মনে করছেন হাসন রাজার কৃত-কর্ম ধরে রাখার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।
মরমী এই সাধকের জীবন গান ও দর্শনকে ঘিরে তেমন কোন চর্চা এখানে হয়না বললেই চলে, পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠা হাসনরাজা মিউজিয়ামে গাধাগাধি করে রাখা হাসনরাজার জীবন-কর্ম ও ব্যবহৃত কিছু স্মৃতি ছাড়া, দর্শনার্থীদের সময় কাটানোর কোন ব্যবস্থা নেই হাসনরাজা মিউজিয়ামে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code