Main Menu

সিলেটে তিন মাসে চার খুন, জনমনে আতংক

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : সিলেট নগরীতে গত কয়েক বছরে থানা ও পুলিশের সংখ্যা কয়েকগুন বৃদ্ধি পেলেও কমেনি খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে একের পর এক খুনের ঘটনা। ফলে এক সময়ের শান্তির নগরী সিলেট এখন অশান্ত হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া এসব অপ্রীতিকর ঘটনা সিলেটের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। গত তিন মাসে নগরীতেই প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন চার জন। এসব নিয়ে এখন জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। প্রকাশ্যে এসব খুন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। অনেকেই বলছেন আগের খুনের বিচারগুলো দ্রুত না হওয়ায় অপরাদীরা বারবার আস্কারা পেয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর শনিবার রাতে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জিন্দাবাজারে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মিসবাহ উদ্দিন নামের এক যুবককে। বন্ধুত্বের দ্বন্দের জের ধরেই নগরীর জিন্দাবাজারে খুন হন মিসবাহ উদ্দিন (২২) নামের এই যুবক। রাত সাড়ে ৮টায় নগরের জিন্দাবাজারের একটি জিমে ব্যায়াম করে ফেরার পথে মিসবাহ উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রোববার (২৭ নভেম্বর) রাতে নিহতের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩০। দায়েরকৃত মামলায় মিসবাহর বন্ধু কবীর আহমদসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামী কবির সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার বলদি গ্রামের সুনা মিয়ার ছেলে।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট নগরীর জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী মামুন বক্স ছাত্রলীগ নেতা সুলেমানের ছুরিকাঘাতে মারা যান। মার্কেটের সামনে মোটরসাইকেল পার্কিংকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার জেরেই তাকে খুন করে সুলেমান। পরবর্তীতে সুলেমানকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। মামনুকে খুনের পর থেকেই নগরীতে শুরু হয় এক অস্থিতিশীল পরিবেশ। ওই দিন থেকেই শুরু হয় ব্যবসায়ীদের আন্দোলন। এরপর জোড়ালোভাবে ১৮ আগষ্ট একঘন্টার অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়। নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় বিকাল ৩টায় এক ঘন্টার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করে সিলেটের সকল ব্যবসায়ীরা। এসময় নগরীর বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানপাট বন্ধ করে দলে দলে এ কর্মসূচীতে অংশ নেন। এতে নগরীতে এক অচলাবস্থার মত সৃষ্টি হয়। এরপর ২১ আগষ্ট সিলেট মহানগর ঐক্য কল্যান পরিষদের আয়োজনে ডাক দেয়া হয় এক বিক্ষোভ সমাবেশের। ওইদিন মামুন হত্যার সাথে জড়িত তারেক নামের এক আসামীকে মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী ২৫ আগষ্ট অনুষ্টিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ। ঐদিন আবার টানা ৭দিনের কর্মসূচীর ঘোষনা দেয় সিলেটের ব্যবসায়ীরা। ২৬ আগষ্ট মামলাটি হস্তান্তর হয় ডিবি পুলিশের কাছে।

মামুন হত্যার ঠিক চারদিন পরই ২০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে খুলিয়াপাড়ার গরম দেওয়ান মাজারের সামনে সন্ত্রাসীরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানুর স্বামী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তাজুল ইসলামকে উপর্যুপুরি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যারাতে নগরীর সুবিদবাজারে দুর্বৃত্তরা রাজিবুল ইসলাম রাজু (২২) নামে এক নির্মান শ্রমিককে খুন করে। সে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার গুলচন্দ সোনাপুর বাজার এলাকার তোরাব আলীর ছেলে। কথা কাটাকাটির জের ধরে তাকে খুন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তার বড় ভাই তাজুল ইসলাম।
ধারাবহিকভাবে ঘটে যাওয়া এসব খুনের ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। তার উপর এসএমপির সবচেয়ে ব্যস্ততম থানা কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই খুন গুলো নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন নগরীর জিন্দাবাজার, লামাবাজার এবং সুবিদবাজার তিনটি জায়গাই জনারণ্য থাকে সবসময়। এরসাথে তিনটি জায়গাই থানার একেবারে কাছাকাছি। পাশাপশি তিনটি জায়গার কাছেই রয়েছে আলাদা পুলিশ ক্যাম্প বা ফাঁড়ি। পুলিশের এতো কাছাকাছি যদি এমন ঘটনা ঘটতে পারে তবে যারা একটু দূরে তারা কতোটুকু নিরাপদ। সবার মনেই যেনো এখন একটি প্রশ্ন পূণ্যভূমিতে রক্তের এই হোলি খেলা থামবে কবে।

Share





Related News

Comments are Closed