Main Menu

সিলেটের শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে আবারো বানিজ্য মেলা

বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেট শাহী ঈদগাহে দেয়াল ঘেরা একটি সরকারী মাঠ। এটাকে সিলেট সদর উপজেলা খেলার মাঠ বলে প্রচার করা হয়ে থাকে। প্রকৃত পক্ষে এটা খেলার মাঠ না মেলার মাঠ না-কি গরুর হাট, এ নিয়ে প্রশ্ন জনমনে।
অনুসন্ধনে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহে সদর উপজেলা খেলার মাঠ বলে কিছুই নেই। সরকারী ভূমি উপজেলা খেলার মাঠ বলে প্রচারের পর থেকে এ পর্যন্ত মাঠে কোন খেলা হয়েছে কি না তা জানা না গেলেও মেলা ও গরুর হাট বসেছে বারবার। প্রতিবছর অন্ততঃ দুই তিনবার এ মাঠে বসে বানিজ্যমেলা। ঈদ উপলক্ষে বসে কোরবাণীর গরুর হাট। চলতি বছরের জুলাই মাসে শেষ হয় ওই মাঠে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এ মেলার আযোজন করে। মেলা সম্পন্নের ৫ মাসের মাথায় আবারো আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার। এ মেলাও করছে সিলেট মেট্রেপলিটন চেম্বার অব কমার্স। দেশী বিদেশী পন্যের প্রসারে মেলার যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে তেমনি রয়েছে এর বিপরীতে নেতিবাচক প্রভাব। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সামাজিক শৃংখলার উপর। পন্যের মেলা পরিণত হয় উঠতি বয়েসী বিপরীত লিঙ্গের মিলন মেলায়। আর এ কারনে পারিবারিক ও সাংসারিক জীবনে বিরাজ করে বিশৃংখল পরিবেশ। মেলায় শুধু পন্যের প্রসার ঘটে না। ঘটে বৈধ-অবৈধ অনেক কিছুর প্রচার ও প্রসার। গত কয়েক মেলায় দেখা গেছে মেলা কর্তৃপক্ষ রাতে সাংকৃতিক অনুষ্টানের নামে নাচ-গানের আয়োজন করে থাকে। ঘনবসতিপূর্ন আবাসিক ও ইন্সটিটিউশনাল এলাকায় এ পর্ব মারাত্মক শব্দ দুষনের সৃষ্টি করে থাকে। বিঘœœ ঘটে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায়। ডিসেম্বর পরীক্ষার মাস বলে নির্ধারিত। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে এ মাসে চলে নিয়মিত বার্ষিক পরীক্ষা। শাহী ঈদগাহের মত এলাকায় ডিসেম্বরে মেলার আয়োজন নিশ্চিতভাবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বিঘœ ঘটাবে। রাতে শব্দ দুষনের কারনে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পরবে না এবং দিনে যানজট সৃষ্টির ফলে সময়মত পরীক্ষার হলে পৌছতে তাদের হিমশিম খেতে হবে। নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় নামকরা কয়েকটি বে-সরকারী ও আধা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে। রয়েছে অতি নিকটে এমসি কলেজ ও সরকারী কলেজ। পরীক্ষার মাসে মেলার কারনে অবুঝ ও উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীদের সময়েরও অপচয় ঘটবে। সব মিলিয়ে এক প্রতিকুল পরিবেশের সৃষ্টি করতে পারে আয়োজিত এ বানিজ্য মেলা। তাই মেলা বন্ধের দাবিতে এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে।
নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ সরকারী খাস খতিয়ানের এ মাঠ নিয়ে বিতর্ক ও মামলা-হামলার শেষ নেই। বিগত মেলা চলাকালে আয়োজকদের অনেক জটঝামেলা পোহাতে হয়েছিল মামলা নিয়ে। মাঠটি সিলেট সদর উপজেলার খেলার মাঠ নাম দেয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠটি আদৌ খেলার মাঠ নয় এবং খেলায় ব্যবহৃতও হচ্ছে না। মাঠের উন্নয়নের নাম দিয়ে প্রায়ই ঈদে গরুর বাজার এবং বছরে দুইতিনবার মেলার জন্য দিয়ে দেয়া হয়। এতে করে কর্তা-ব্যক্তিদের জ্ঞাতবহির্ভুত লাখ লাখ টাকা আয়ও হয়ে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন মূলত তাদের অবৈধ আয়ের উৎস হিসেবে খেলার নামে মাঠ নাম দিয়ে সরকারী এ ভূমিকে মেলার মাঠ ও গরুর হাট হিসেবে ব্যবহার করে অবৈধ আর্থিক ফায়দা লুটে চলেছেন।
এ ব্যাপারে মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি সিলেট মেট্রেপলিটন চেম্বারের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে মেলার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। উদ্বোধনের সময় তারিখ এখনো নির্ধারন করা হয়নি। সিলেট সদর উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেলার জন্য মাঠটি ব্যবহারের অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুব-এর বক্তব্য সম্পূর্ন বিপরীত। তিনি বলেন, নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ মাঠটি সরকারী খাস খতিয়ানের ভুমি সত্য। তবে এটা ‘সিলেট সদর উপজেলা খেলার মাঠ’ বলে বরাদ্দের বিষয়টি তার আদৌ জানা নেই এবং ‘সিলেট সদর উপজেলা খেলার মাঠ’ বলে উপজেলা প্রশানের মালিকানাধীন ভূমির তালিকা ও খাতাপত্রে কিছুই নেই্। আয়োজকরা মাঠটিতে মেলা করার জন্য কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন সে বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই বলে জানান তিনি।
সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের সাথে সোমবার বিকেলে সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে একটি জরুরী মিটিংয়ে আছেন বলে এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

Share





Related News

Comments are Closed