Main Menu

সুনামগঞ্জে বিজিবি ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে দুই ব্যবসায়ীর ১৫টি গরু আটক করে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উৎকোচ নেয়ার এবং হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। দুই ব্যবসায়ী হলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউপির গন্ধর্বপুর গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে সৈয়দ দিলদার আলী ও একই গ্রামের শায়েস্তা মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া।
হয়রানীর শিকার ওই দুই ব্যবসায়ী রবিবার গণমাধ্যকে জানান, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট থেকে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকায় বৃহস্পতিবার ১৫টি বখনা বাছুর জাতের গরু ক্রয় করার পর শুক্রবার বাড়ি ফেরার পথে পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চরগাঁও গ্রামের নিকট পৌছলে মাছিমপুর বিওপির বিজিবির একটি টহল দল গরুগুলো আটক করেন। এসময় ওই উপজেলার ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নিজেও এসে উপস্থিত হন। গরু গুলি বাদাঘাট থেকে বৈধভাবে ক্রয় করেছি দাবি করলেও বিজিবির টহল দল আমাদের কোন কথাই শুনেননি। পরদিন শনিবার ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিজিবিকে ৪০ হাজার টাকা উৎকোচ দিয়ে ৮টি গরু ফেরত পাই। বাকী ৭টি গরু এখনও ফেরত পাইনি। বিজিবির লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যান এখনও গরু গুলো ফেরত দেব, দিচ্ছি বলছেন।
ওই দুই ব্যবসায়ী আরো বলেন, বিজিবির সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান জড়িত ছিলেন বলেই তার ইশারায় আমাদের গরুগুলো আটক করা হয়েছে।
তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়াডের্র ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুন বলেন,‘ দুই ব্যবসায়ী বাদাঘাট বাজার থেকে ১৫টি গরু টাকা দিয়ে কিনেছেন বলে আমি উপস্থিত হয়ে জানিয়েছি। কিন্তু বিজিবির লোকজন তাদেরকে গরু ফেরত দেয়নি। পরে শুনেছি তারা এক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ৮টি গরু ফেরত নিয়েছেন।’
বিশ্বম্ভপুরের চিনাকান্দি বাজারের ইজারাদার ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন,‘ আমি এসব ঘটনায় জড়িত নই।’ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।’ তিনি এখন চিনাকান্দি বাজারের ইজাদার নন বলেও দাবি করেন ।’
বিজিবির মাছিমপুর বিওপির সরকারি মুঠোফোনে রোববার যোগাযোগ করা হলে হাবিলদার মো. শাহাজাহান বলেন,‘ যিনি গরু আটক করেছিলেন তিনি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারে চলে গেছেন।’
সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাসির উদ্দিন আহমেদ পিএসসি রোববার রাতে বলেন, ওই গরুগুলি অবৈধপথে ভারত থেকে আনা হয়েছিলো বলেই বিজিবির টহল দল গরুগুলো আটক করেছিলো। ওই দুই ব্যবাসায়ী আমার নিকট থেকে মাফ চাইলে মানবিক কারনে ৮টি গরু ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো। তিনি আরো বলেন, তখন সবগুলো গরু জব্দ তালিকা (সিজার) করাটাই ভালো ছিল।

Share





Related News

Comments are Closed