সুনামগঞ্জে নদী পথে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌ-ধর্মঘট চলছে
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় নৌ-পথে বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারনে চলছে অনির্দিস্টকালের নৌ-ধর্মঘট। বালু-পাথর, কয়লা-চুনাপাথর পরিবাহি ষ্টিলবডি, ট্রলার ও বলগেট নৌকাকে টার্গেট করেই এ চাঁদাবাজির রমরমা বাণিজ্যের কারনে সারা দেশে গোটা সুনামগঞ্জ জেলার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হলেও পুলিশ চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যত কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুরের যেসব নৌ-পথে চাঁদাবাজি হচ্ছে সেসব আদায়কৃত চাঁদার টাকার একটি বড় ভাগ পাচ্ছেন সংশ্লিস্ট থানার কিছু অসৎ পুলিশ অফিসার, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা প্রভাবশালীরা ও তাদের‘ সাঙ্গ-পাঙ্গরা।’
জেলার তাহিরপুর উপজেলার ফাজিলপুর বালিপাথর মহাল থেকে বালি-পাথরবাহি নৌ-পরিবহনগুলো বিশ্বম্ভপুর, জামালগঞ্জ ধর্মপাশার নৌ-পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিটি নৌ-পরিবহনকে একাধিক স্থানে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে হচ্ছে। এ কারনে গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বম্ভপুরের রক্তি নদীতে কমপক্ষে দেড় শতাধিক বালি-পাথর বোঝাই ট্রলার, ষ্টিলবডি ও বলগেট তাদের নির্দিস্ট গন্তব্যে যাত্রা থামিয়ে অনির্দিস্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুরের আবুয়া নদীতে নৌ-ধর্মঘটের সর্বশেষ অবস্থার খোজ নিতে গিয়ে শনিবার দেখা গেছে নদীর তীরের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারি সারিবদ্ধ ভাবে কমপক্ষ্যে দেড় শতাধিক বালি-পাথর বোঝাই বলগেট, ষ্টিল ও ট্রলার নৌকা আটকে আছে।
ধর্মঘট আহবানকারী নৌ–পরিবহন শ্রমিকদের সাথে আলাপকালে তারা অভিযোগ করেন- বিশ্বম্ভপুরের আবুয়া, রক্তি, রঙ্গারছড় ও জামালগঞ্জের বেহেলী, লালপুর, গজারিয়া, তাহিরপুরের রাজারগাঁও, ঘাগড়া, ফাজিলপুর, জলবৌলাই, শ্রীপুর বাজারের মতিউর বাহিনী, ধর্মপাশার সানবাড়ি, জয়শ্রী সহ একাধিক পয়েন্টে নামে বেনামে প্রতিটি নৌকা থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। চাঁদার টাকা না দিলেই মারধর, নৌকা আটকে রাখা হয়।
বিশ্বম্ভপুর সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার নৌ-পথ গুলোতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে তাহিরপুরের জাদুকাঁটা নদী থেকে ছেড়ে যাওয়া বালি পাথরবাহি নৌ পরিবহনগুলো বিশ্বম্ভরপুরের ফতেপুরের আবুয়া নদীর ঘাটে আটকে রেখে অনির্দিস্টকালে জন্য এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্যাতিত নৌ শ্রমিক ও নৌ মালিকরা জানান, এসব চাঁদাবাজির পেছনে সংশ্লিস্ট থানা গুলোর কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও রাজনৈকিত দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা প্রভাবশারী ও তাদের সাঙ্গ পাঙ্গরাই জড়িত।
বিশ্বম্ভপুরের ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর বাজারে চাঁদাবাজদের গ্রেফতার ও চাঁদাবাজি বন্ধে শুক্রবার প্রতিবাদ সমাবেশ হলেও শনিবার পর্য্যন্ত পুলিশ কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় চলমান ধর্মঘট বহাল রয়েছে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী রাজনের আহবানে প্রতিবাদ সমাবেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দিরাই সার্কেল) সুরত আলম, বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মোল্লা মনির হোসেন সহ ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী রাজন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান বলেন, আবুয়া ও রক্তি নদীতে চাঁদাবাজ চক্রের অত্যাচারে নৌকা শ্রমিকরা অতিষ্ঠ, তাদের জন্য শ্রমিকরা আতঙ্কে আছে, আমরা বারবার থানা পুলিশকে এ বিষয়ে অবগত করেছি। বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মোল্লা মনির হোসেন শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, বৃহস্পতিবার ১১ চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।’ তিনি বলেন, নদীতে পুলিশের দ্রতগতির নৌ-যান না থাকায় তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।
Related News
সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকেRead More
শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখRead More



Comments are Closed