Main Menu

তাহিরপুরে মানিক হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে মিছিল সমাবেশ

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাটে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মানিক মিয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল সমাবেশ অনুস্টিত হয়েছে।
নিরীহি ও হতদরিদ্র পরিবারের মানিককে চোর শনাক্তে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যার প্রতিবাদে ও মাসুক সহ তার সহযোগীদের দ্রত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্ধ শুক্রবার বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্থানীয় স্কুল মাঠে থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর আসলে বিক্ষোভকারীগণ তার নিকট একই দাবি তুলে ধরেন। ওসি তাৎক্ষণিক ভাবে বিক্ষোভকারীদের প্রতিশ্রতি দেন দ্রতই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে খুনীদের গ্রেফতারের দাবির প্রতি একাত্বতা পোষন করে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগ নেতা বাদাঘাট ইউপির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, রাখাব উদ্দিন, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন, বড়দল উওর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, ব্যবসায়ী রহমত আলী, মাইনউদ্দিন, আবু তাহের, নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, ওলি মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা শফিকুল ইসলাম, জামালগঞ্জ প্রতিবন্ধি উন্নয়ন সংস্থার সাধারন সম্পাদক জসীম উদ্দিন প্রমুখ।
ঘটনার তিনদিন পর নিহত মানিক মিয়ার ভাই বাদী হয়ে সালিসী ও নির্যাতনকারী যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় আত্বহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এদিকে, মামলার আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের হতদরিদ্র পরিবারের ছাক্তার মিয়ার ছেলে সদ্য বিবাহিত যুবক পান দোকানদার মানিককে মঙ্গলবার রাতে চোর শনাক্ত করণে চাল পড়া ও মানসিক চাঁপ সৃষ্টির পাশাপাশী নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ইউনিয়নের যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ও বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক পৈলনপুর গ্রামের মৃত রহিছ উদ্দিনের ছেলে মাসুক, ভাগ্নে মনসুর আলম, মাসুকের শ্যালক বাদাঘাট সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা আজহারুল ইসলাম সোহাগ সহ অন্যান্য সহযোগীরা মানিক নিজেই বিষপানে আত্বহত্যা করেছে বলে প্রচার করে বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে।
pic-sunamganj-ocউল্লেখ্য, উপজেলার বাদাঘাট বাজারের সুতা ও মসলা ব্যবসায়ী শফিকুলের দোকান থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ৭০ হাজার টাকা চুরি হয়। বুধবার সন্ধ্যায় শফিকুল তার সহযোগিরা চোর শনাক্ত করার জন্য কথিত এক নারী কবিরাজের কাছ থেকে চালপড়া নিয়ে আসে। এরপর চোর সন্দেহে রাত সাড়ে ৭টার দিকে শফিকুলের দোকানের সামনে পান দোকান নিয়ে বসা হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে মানিকসহ স্থানীয় গাড়িচালক, হোটেল কর্মচারী ও তার নিজের দোকানের কর্মচারীকে পড়া চাল খেতে দেয়। মানিক চাল খেতে না পারায় শফিকুল ও তার সহযোগীরা বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে তাকে চোর বলে চিহ্নিত করে। এরপর সালিশ বৈঠকে যুবলীগ নেতা মাসুক মিয়া, তার ভাগ্নে মনসুর, তার শ্যালক আজহারুল ইসলাম সোহাগসহ তার লোকজন এসে মানিককে চুরির টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেয়। পরে মাসুক ও তার লোকজন মানিককে রাতে বণিক সমিতির অফিস কিংবা কাপড় পট্টির একটি দোকানে নিয়ে দরজা বন্ধ করে নির্যাতন করে। পরে মানিকের অবস্থা বেগতিক দেখে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টার অপপ্রচার চালায় তারা।
সূত্র জানায়, বুধবার রাতে মাসুকের লোকজন স্থানীয় বাদাঘাট বাজারের এক চিকিৎসকের কাছে মানিক কে নিয়ে গেলে তিনি তার চিকিৎসায় অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর মাসুকের লোকজন মানিককে ফেলে রেখে যে যার মত চলে গেলে মানিকের পরিবারের লোকজন রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুতর আহত মানিক মিয়াকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রহস্যজনক কারনে সেখান থেকেও তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে সে মারা যায়। এরপর থেকেই সালিশকারী ও মাসুকের লোকজন এলাকায় প্রচার করতে থাকে মানিক চুরির অপবাদ সইতে না পেরে নিজেই বিষপানে আত্বহত্যা করেছে।

Share





Related News

Comments are Closed