Main Menu

সিলেট চেম্বারের বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: শর্ত সাপেক্ষে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৬-২০১৭ মেয়াদের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং আইনানুগভাবে সম্পন্ন করতে এ সময় বাড়ানো হয়েছে।
মঞ্জুরীকৃত এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হলে বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনা পর্ষদকে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিবেচনা পূর্বক বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৮ক ধারা অনুযায়ী সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র ২০১৬-২০১৭ মেয়াদী নির্বাচন আইনানুগভাবে সম্পন্ন করার জন্য শর্ত সাপেক্ষে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ (০৭-০১-২০১৭ইং) হতে ১শ ৮০ দিন সময় বাড়ানো হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং বাম/টিও-১/৯২ (অংশ-৬)/২৮৯ এ উল্লেখকৃত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ১৯৯৪ অনুসারে অনতিবিলম্বে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা পূর্বক নিবাচন বোর্ড ও আপীল বোর্ড গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা মাত্র তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। নির্বাচন চলাকালে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি কেবল মাত্র রুটিন মাফিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে, কিন্তু নির্বাচনে কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। নির্বাচনের আর কোন সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়েও রহস্যজনক কারনে সভাপতি মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে। গত ২০ অক্টোবর চেম্বারের সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদ নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধির আহ্বান জানান। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সুপারিশ সম্বলিত আবেদনটি আমলে নিয়ে মন্ত্রনালয় শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষে আগামী ৭ জানুয়ারী থেকে পরবর্তী ১৮০ দিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে মন্ত্রনালয়। এদিকে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার বিষয়টি অবগত নন একাধিক পরিচালক। তারা এ জন্য এককভাবে সভাপতিকে দায়ি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচালক জানান, নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে এ আবেদন করা হয়েছে। অগঠনতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি রহস্যজনক বলে তারা মনে করেন।
যদিও সিলেট চেম্বারের নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে গত ১১ আগস্টের বোর্ড সভায় একাধিক পরিচালকের অপত্তিরমুখে চেম্বার সভাপতি মাইনুর রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করেন। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন মো. গোলাম রাব্বানী ফারুকী ও লুৎফুর রহমান। এছাড়া বোর্ডের ওই সভায় শফিক আহমদ বখতকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আপিল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য দুই সদস্যরা হলেন মুজিবুর রহমান ও মোস্তফা কামাল। নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছিল নানামুখি তৎপরতা। সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ অবস্থায় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সভাপতির নেতৃত্বে চেম্বারের ক্ষমতা নিজেদের হাতে ধরে রাখতে নির্বাচন প্রভাবিত করার প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগ উঠে। যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৪৫ দিনের মধ্যে ৮৯৯ জনকে চেম্বারের সদস্য করা হয়। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চেম্বারে সদস্য করা হয় ১১৫৫ জনকে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সদস্য করা হয়েছে ৮৯৯ জনকে। ৪৫দিনের মধ্যে এতো অস্বাভাবিক সদস্য করার বিষয়টি রহস্যের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন নির্বাচনে ফায়দা লুটতেই চেম্বার সভাপতির নেতৃত্বে এমনটি করা হয়। তার পরও চেম্বার সভাপতি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি হতে পারেননি। নির্বাচনে পরজায়ের শংকায় তিনি নিজের মেয়াদ বৃদ্ধিতে বিকল্প পথে হাটেন।
সিলেটে ব্যবসায়ীদের ফাদার সংগঠন হিসেবে সিলেট চেম্বারকে দেখা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর নির্বাচনে প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি হচ্ছেনা বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের। তারা জানান, ভোটগ্রহণের আগেই অনেকটা ফলাফল তৈরী হয়ে যায়। ঘুরে ফিরে কয়েকটি মুখই আসেন পরিচালক হিসেবে। যদিও সিলেট চেম্বারের আগের সেই জৌলস আর নেই। বর্তমান কমিটি তিন বছর দায়িত্ব পালন করলেও কোন বাণিজ্যমেলা আয়োজন করতে পারেনি। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার গঠনের পর থেকে গত দুই বছর তারাই নগরে বাণিজ্যমেলার আয়োজন করে।

Share





Related News

Comments are Closed