জিলু হত্যাকারীদের বিএনপিতে পূণর্বাসন না করার আহবান
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সিলেট মহানগর ছাত্রদল নেতা জিলুল হক জিলুর হত্যাকারীদেরকে বিএনপি-ছাত্রদলের রাজনীতিতে পূণর্বাসন না করতে বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জিলুর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।
স¤প্রতি এক লিখিত আবেদনে নিহত জিলুল হক জিলুর বড়ভাই আহমেদ আহসান মাহমুব বলেন, ২০১৪ সালের ২৭ জুন সিলেটের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জিলুল হক জিলুকে সিলেট শহরের কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার ভাই গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন সময় থেকেই আমৃত্যু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে সে। তার সুমিষ্ট ব্যবহার, দৃঢ় প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সংগঠনকে একটি মজবুত ভিত্তির উপর দাড় করাতে সক্ষম হয়। দলের সকল দুর্দিনে সে রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। একারণে তাকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। কিন্তু তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু বিপথগামী ছাত্রদল নামধারী সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে। এসব খুনীদের বিরুদ্ধে অতীতেও খুন, রাহাজানি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্রমাণ রয়েছে। এসব অপকর্ম ও তাদের আওয়ামীঘেষা বিচ্যুত আদর্শের বিরোধীতার কারণে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে আমার ভাই জিলুল হক জিলুকে।
ভাই হত্যার দুই বছর পার হয়ে গেলেও ন্যায় বিচার নিয়ে আমার গোটা পরিবার ও স্বজনেরা শঙ্কিত। আমরা ভাইবোনরা আজও আমাদের মা-বাবার শীতল করুন চোখের দিতে তাকাতে পারি না। হত্যাকারী এসব সন্ত্রাসীরা বিভিন্নভাবে মামলাকে বাধাগ্রস্থ করে যাচ্ছে এবং আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-দমকী দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সন্ত্রাসী, খুনীচক্রের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ চার্জশীট থেকে প্রকৃত খুনিদের নাম বাদ দিয়েছিলো। আমি সেই চার্জশীটের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে প্রমাণাদিসহ আদলতের দ্বারস্থ হলে আদালত সকল আসামীদের মামলার অন্তর্ভূক্ত করেন। খুনীচক্রের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় জিলু হত্যা মামলাটি এখনও বিচারাধীন থাকাবস্থায় এবং খুনীচক্রের কয়েকজন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে বহিস্কার থাকাবস্থায় সিলেটের কিছু অতিউৎসাহী বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা খুনীদেরকে এবং বহিস্কৃতদেরকে সিলেটের বিএনপি ছাত্রদলের রাজনীতিতে পূণর্বাসনের অপচেষ্টা করছেন, যা সিলেটের ছাত্রদল এবং বিশেষ করে আমাদের পরিবারের সদস্যদের বুকে কুঠারাগাত করার শামিল। খুনী ও বহিস্কৃতদেরকে পূণর্বাসনের এমন অপচেষ্টা দলের ত্যাগী নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদেরকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে।
আবেদনে আহমেদ আহসান মাহবুব নিজেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত উলেখ করে বলেন, আমার ভাই জিলুল হক জিলু সিলেটে ছাত্রদলকে সু-সংগঠিত করতে জীবন দিয়েছে। অথচ বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারী কতিপয় ব্যক্তি, খুনীচক্রকে বিএনপি-ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন যা চরম অমনাবিক, হৃদয় বিদারক এবং জিলুল হক জিলুর রক্তের সাথে বেঈমানী ছাড়া কিছুই নয়।
প্রশাসনের অসহযোগীতার কারণে ভাই হত্যার বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে শংকিত থাকার পরও যদি নিজ দল থেকে ন্যায় বিচার না পাই এবং দলে এসব খুনীরা পূণর্বাসিত হয় তবে আমাদের হতাশার অন্ত থাকবে না।
এসব আদর্শ বিচ্যুত খুনীরা দলের প্রশ্রয় পেলে একে একে জাতীয়তাবাদী ত্যাগী নেতাদের খুন করে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দলের জন্য কেউ ঝুঁকি নিতে চাইবেনা। তাই দেশের স্বার্থে, দলের স্বার্থে এসব খুনী ও দল থেকে বহিস্কৃতদের বিএনপি-ছাত্রদলের রাজনীতিতে আজীবন নিষিদ্ধের অনুরোধ জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দেওয়া দরখাস্তের অনুলিপি বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ হক, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, সাবেক সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি (সিলেট বিভাগ) মাহবুবুল হক চৌধুরী, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাঈদ আহমদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম নাচন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না এবং মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ লোকমানের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
Related News
১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লংমার্চের তারিখ ঘোষণা, দাবিতে নতুন দফা যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন রূপান্তরিতRead More
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তনRead More



Comments are Closed