Main Menu

সিলেট পাসপোর্ট অফিসে জনবল সংকট, দুর্ভোগে গ্রাহক

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে লোকবল সংকটসহ নানা সমস্যা বিরাজ করছে। ফলে অফিসের প্রাত্যহিক কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যেখানে বিভিন্ন পদে ১শ’ জনবলের দরকার, সেখানে উপ পরিচালকসহ জনবল আছে মাত্র ৩১ জন। এ অবস্থায় সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে এ অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থান সংকুলান না হওয়ায় পাসপোর্ট করতে আসা জনসাধারণকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক লোককে লাইনে দাঁড়াতে এমনকি গেটের বাইরে ভিড় করতে হয়। এছাড়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিতে অযথা দেরি হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। বিভাগীয় এ পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহকদের পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সিলেট মহানগরীর দক্ষিন সুরমা এলাকার আলমপুরে মাত্র পঞ্চাশ শতাংশ জমির উপর বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস গড়ে উঠেছে। এর মধ্য অফিসের মুল ভবন মাত্র ৬/৭ শতাংশ জায়গার উপর। এই ভবনের নীচতলায় ছোট করিডোরে পাসপোর্টের কাগজপত্র জমা নেয়া ও পাসপোর্ট ডেলিভারির কাজ চলে। প্রতিদিন শত শত গ্রাহক এমনকি বিদেশী বংশোদ্ভূত বাংলাদেশীরাও ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। লাইনে দাঁড়াতে হয় সত্তরোর্ধ বৃদ্ধকেও। এদের বসার জন্য বড় পরিসর দরকার। প্রতিদিন মফস্বল থেকে আসা মানুষ পাসপোর্ট অফিসের বাইরে দালাল দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন-তা অবশ্য কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনা।

এদিকে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে পাসপোর্ট গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি হয়। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এর উপর এই দায়িত্ব অর্পিত। কিন্তু যেখানে ১৫/১৬ দিন লাগার কথা সেখানে দুই মাস পর্যন্ত লেগে যায়। সিটিএসবির এক কর্মকর্তা জানান, ঢাকার মন্ত্রণালয়ের সিল পেয়ে ক্লিয়ারেন্স আসতে দেরি হয়। তাছাড়া গ্রাহকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা, তার সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে তদন্তের পর ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র তৈরী করা হয়। এ সমস্ত কাজ করতে গিয়ে কিছুটা দেরি হয়। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে তাদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। অথবা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বা দালাল মারফত অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তারা ক্লিয়ারেন্স পান।

সিলেট পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পাসপোর্ট অফিসে বর্তমানে প্রতিমাসে ৫/৬ হাজার পাসপোর্ট ডেলিভারি হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের কারণে তাদের স্বাভাবিক কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসে যেখানে বিভিন্ন পদে ১শ’ জনবলের দরকার, সেখানে উপ পরিচালকসহ জনবল আছেন মাত্র ৩১ জন। পাসপোর্ট অফিসকে দালাল মুক্ত করতে র‌্যাব পুলিশের নজরদারী বাড়ানো দরকার বলে ডিডি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিছু দিন পরপর র‌্যাব পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু’চার জন দালাল আটক করে। এরপর জামিন নিয়ে তারা আবার দালালীতে ফিরে আসে। তাই র‌্যাব পুলিশের কড়া নজরদারী দরকার। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ব্যাপারে তাদের কোনো হাত নেই মন্তব্য করে ছাড়পত্র দেয়ার ব্যাপারে অযথা দেরি না করাই ভালো বলে মত দেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed