Main Menu

জালালাবাদের এই নগরী-২

খলিলুর রহমান : জালালাবাদের প্রাণকেন্দ্র সিলেট নগরী। এই নগরীতে অবস্থিত যোগযোগ ব্যবস্থার অতি প্রাচীন নিদর্শন সুরমা নদীর উপর ক্বীন ব্রীজ।
আসাম-বেঙ্গল তথা ব্রিটিশ শাসিত পূর্বভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ঐতিহাসিক স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিলেটের ক্বীনব্রীজ।
আজকের বাংলাদেশের সিলেট বিভাগ ছিল ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ও আসামের ১২ জেলার একটি। শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বানিজ্য,সভ্যতা-সংস্কৃতি ও উন্নয়নের দিক থেকে সিলেটকে বলা হতো আসামের রাণী। তখনকার সময়ে আসামের সাথে সিলেট ও বেঙ্গলের কোন সড়ক যোগাযোগ ছিলনা। তৎকালীন বাংলার দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও সিলেটের করিমগঞ্জ হয়ে আসামের লামডিং পর্যন্ত রেলপথটিই ছিল একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। রেল চলতো পাহাড়ের ৩৬টি বগদার (সুড়ঙ্গপথের) নিচ দিয়ে। আসামের রাজধানী ছিল আজকের ভারতের মেঘালয়া রাজ্যের রাজধানী শিলং। সেই শিলং-এর সাথে সিলেটের প্রথম সড়ক ছিল বর্তমান বাংলাদেশের সিলেট-তামাবিল সড়ক।
তৎকালীন আসামের গভর্নর মাইকেল ক্বীন ১৯৩৩ সালে সিলেট সফরে এসে সুরমার উপর ব্রীজ নির্মান প্রকল্প হাতে নেন। কঠিন লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে ৪ বছর এবং ১৯৩৬ সালে ব্রীজটি যান চলচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তখনকার সময়ে পশ্চিম ত্রিপুরা এবং সিলেটের সুতারকান্দি হয়ে আসাম-বেঙ্গল সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয় সিলেট নগরীর ক্বীনব্রীজ দিয়ে। ঢাকা থেকে তৎকালীন পশ্চিম ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা ও বি-বাড়িয়া) হয়ে আসামের তৎকালীন রাজধানী শিলং এবং বর্তমান রাজধানী গোয়াহাটি পর্যন্ত একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছিল সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক ক্বীনব্রীজ দিয়েই।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বাহিনী ক্বীনব্রীজের উত্তর পাশের অংশটি ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তা উঠিয়ে দিয়ে আবার মেরামত করা হয়। এর থেকে ব্রীজটি দূর্বল হয়ে পড়লে ভারী যানবাহন চলাচল ঝুকিপূর্ন হয়ে যায়।
এরশাদ সরকারের আমলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নির্মান করা হয় সুরমা নদীর উপর শাহজালাল ব্রীজ।
এরপর আরো কয়েকবার ক্বীনব্রীজটি পুরনো আদলে রেখে সংস্কার করা হলেও সরকারী কাজে চিরাচরিত অনিয়ম দূর্র্নীতির যাতাকলে পড়ে ব্রিজটি একমাত্র পায়ে হেটে ও রিক্সা চড়ে পারাপারের ব্রীজে পরিনত হয়ে গেছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না সংস্কার ও পুনঃনির্মানে। একসময় ব্রীজের উপর দু’ধারে সোডিয়াম লাইট দেয়া, কিন্তু এখন আর তাও নেই। রাত হলেই ক্বীনব্রীজ ভুতুড়েব্রীজে পরিণত হয়ে যায়। অহরহ ছিনতাই ও রাহাজানীর শিকার হন পথচারী এবং রিক্সারোহীরা। ক্বীনব্রীজের দু’পাশে দৃষ্টিনন্দন দুটি গেইট ও নিচে ওয়াকওয়ে রয়েছে সত্য। । কিন্তু গেইট ও ওয়াকওয়ে দখল করে নিয়েছে হকার ও ভাসমান পতিতারা। ভাল ও ভদ্র মানুষজন এখানে দাঁড়াতে রাজি হন না, ভয় পেয়ে থাকেন। তবে ব্রীজ ও ওয়াকওয়ে সিলেটের জনমানুষের সার্বিক কাজে না লাগলেও এটাকে কেন্দ্র করে নেতা-হোতা, কথিত সাংবাদিক ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বখরা ব্যবসা জমজমাট। সে যাই হোক সিলেটের ঐতিহাসিক ক্বীনব্রীজটি একশ্রেণীর মানুষের পেট পালনের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ও থাকবে যুগযুগ ধরে।

Share





Related News

Comments are Closed