Main Menu

জামালগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার নেই

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের একটি গ্রামে রবিবার রাতে দুর্গাপূজার মন্ডপ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা অপহরণ করে ধর্ষণ করে।
ধর্ষিতার মা ও পরিবারের লোকজন পরদিন সোমবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধা অবধি থানায় বসে থাকার পর রাত সাড়ে ১০টায় মামলাটি ডায়রী ভুক্ত করা হয়।
মামলায় আসামী করা হয়েছে উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের মদনাকান্দি গ্রামের পিন্টু সরকারের ছেলে ধর্ষক ভাস্কর তালুকদার(২৪) কে। ভাস্কর ওই ইউনিয়নের আ’লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদারের চাচাত ভাইয়ের ছেলে।
মামলার এজাহার ও ভিকটিমের পারিবারীক সুত্র জানায়, উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের একটি গ্রামে দুর্গাপূজার আরতি শেষে মন্ডপ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় বাড়ি সংলগ্ন বাঁধ থেকে পার্শ্ববর্তী মদনাকান্দি গ্রামের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা ভাস্কর তালুকদার ওই স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হালির হাওরের নির্জন স্থানে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়। পরে অজ্ঞান অবস্থায় রাত ১১টায় ওই কিশোরীকে হাওরে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসী উদ্ধার করে মামার বাড়িতে পৌছে দেন। রাতে প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা সূস্থ হলে ধর্ষিতা কিশোরী পরিবার ও গ্রামের লোকজনকে ঘটনাখুলে বলে।
খবর পেয়ে ধর্ষণকারীর চাচা ইউপি চেয়ারম্যান সদলবলে ছুটে আসেন ধর্ষিতার গ্রামে বিষয়টি সালিসে নিষ্পক্তি ও ধামাচাঁপা দিতে। এরপর চেয়ারম্যানের চাঁপে রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্য্যন্ত ধর্ষিতা কিশোরীর চিকিৎসাসেবা কিংবা আইনি সহায়তা নিতে বারবার বাঁধা আসে। এক পর্যায়ে ধর্ষিতার মা ও পরিবারের লোকজন সোমবার সকাল ১০টার দিকে ওই কিশোরীকে নিয়ে থানায় হাজির হলেও ওই চেয়ারম্যানের ইন্দনে সন্ধা ৬টা পর্য্যন্ত ভিকটিম ও ধর্ষিতাকে থানায় বসিয়ে রাখা হয়।
এদিকে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লিখা পর্য্যন্ত পুলিশ মামলার আসামী ধর্ষক ভাস্করকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, স্বামী পরিত্যক্ত মায়ের একমাত্র কিশোরী কন্যাকে নিয়ে ভাইদের সংসারে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে নিচ্ছিলেন মা। স্বপ্ন ছিলো মেয়ে একদিন লেখাপড়া করে স্কুল শিক্ষক হবে। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকেই ধর্ষিতা কিশোরী ও তার দরিদ্র মা–মামারা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লোকলজ্জার ভয়ে। এ ঘটনার পর মামলা চালিয়ে যাওয়া ও ওই কিশোরীর বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করাটা অনেকটা অনিশ্চিত মনে করছেন পরিবারের লোকজন।
জামালগঞ্জ থানার মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মো: জয়নাল আবেদীন মঙ্গলবার জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে, আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশী চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Share





Related News

Comments are Closed