শিশু মাহিরার লাশ ৩দিন পর রবিবার সন্ধায় দাফন
হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ থেকে: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের হুমায়ুন কবীর ও আলপিনা দম্পতির শিশু কন্যা মাহিরার লাশ অবশেষে রবিবার সন্ধা ৭টায় দাফন করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ভোররাতে ওই শিশুর মৃত্যু হলে শশুর বাড়ির লোকজনের বাঁধার মুখে লাশ দাফন করতে দেয়া হয়নি। পরে রবিবার ভোররাত পৌণে চারটার দিকে থানা পুলিশ হুমায়ুনের বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে সকালে লাশ মর্গে প্রেরণ করে। সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর বেলা পৌণে তিনটার পর লাশবাহি গাড়ী রওয়ানা দিয়ে থানায় পৌছে বিকেল ৫টার দিকে। এরপর দূর্গম হাওর পাড়ি দিয়ে সন্ধা সোয়া ৬টায় ট্রলারে করে মাহিরার লাশ পৌছে গ্রামের বাড়িতে। লাশ পৌছার পর আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ ছুঁটে আসেন দরিদ্র হুমায়ুনের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে। সবশেষে সব বাঁধা অতিক্রম করে সন্ধা ৭টায় বাড়ির সামনেই পারিবারীক কবরস্থানে পুর্বে খুঁড়ে রাখা কবরেই তিনদিন পর দাফন করা হল মাহিরার লাশ।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের হুমায়ুন কবীরের দু’মাস বয়সী শিশু কন্যা মাহিরার শুক্রবার ভোররাতে মৃত্যু হলে শশুর বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নামাজে জানাযা শেষে বাড়ির সামনে কবরে নামানো হয় লাশ। এক পর্যায়ে শশুর কাজীম উদ্দিন তার সহোদর ভাই প্রভাবশালী কাইয়ুম বাঁধা দেন লাশ দাফনে। বাধ্য হয়ে লাশ ফের বাড়িতে উঠিয়ে আনা হয়। হুমায়ুন কবীর শনিবার রাতে কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদককে জানায়, শশুর বাড়ির লোকজন লাশ দাফন করতে হলে স্ত্রীর নামে তার নীজ বাড়ির ১ কেয়ার জমির দলিল ও আরো ৫ কেয়ার জমি কিনে দিয়ে লাশ দাফন করতে হবে বলে আলটিমেটাম দেয় । অন্যথায় ওই শিশু কন্যাকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে থানা পুলিশে মামলা করারও হুমকি দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে শনিবার বাদ জোহর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরুল আলম পরিষদ কার্যালয়ে সুরাহার জন্য বসলেও শশুর বাড়ির লোকজন তাদের কথায় অনঢ় থাকায় শেষ পর্য্যন্ত হুমায়ুনের বাড়িতেই রাতভর পড়ে ছিলো শিশু কন্যার লাশ।
উপজেলার কাজীম উদ্দিনের মেয়ে আলপিনার স্বামীর বাড়ির লোকজনের সাথে বণিবনা না হওয়ায় ৪০ দিনের দুধের শিশু কন্যাকে স্বামীর বাড়ি ফেলে রেখে পার্শ্ববর্তী বাপের বাড়ি চলে যায়। নবজাতক ওই শিশু কন্যাকে মা ছাড়াই পরিবারের লোকজন আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু বিধিবাম শুক্রবার ভোররাতে ওই শিশু কন্যা মৃত্যুবরণ করার পর স্বামীকে লাশ দাফন করতে না দিয়ে বাড়ি, জমি লিখে দেয়ার অপকৌশল ও আলটিমেটাম দেয়া হয়।
থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই নুরুল ইসলাম রবিবার বেলা দেড়টায় জানান, শিশু কন্যার লাশ পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে সকাল ৮টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আপাতত থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে হত্যার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। জমিজমা লিখে নেয়ার জন্যই লাশ দাফনে হুমায়ুনের শশুর বাড়ির লোকজন হত্যা মামলার ভয় দেখিয়েছে।
হুমায়ুন লাশ দাফনের পর মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যকর্মীরা আমার মত দরিদ্র ব্যক্তির পাশে দাড়িয়েছে বলেই আমি কোন রকম হয়রানী ছাড়াই থানা পুলিশ ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় দ্রত সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্তের পর লাশটি দাফন করতে পেরেছি।
আলপিনার পিতা কাজীম উদ্দীনের সাথে সন্ধা সোয়া ৭টায় এ প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি বলেন, আমার মেয়েকে হুমায়নু ঠিকমত ভরণ পোষণ করেনা, মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, বাড়ির মহিলারা শুক্রবার লাশ দেখেছে, তবে আমরা কেউ ওই বাড়িতে যাইনি। আমরা এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেব।
Related News
ছাতকে সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে পৌরসভার ইজারা নেওয়া টোল আদায় করতে না পেরে বিপুলRead More
সুনামগঞ্জের হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: এক ফসলি বোরো ফসলের দেশ হাওর জনপদ সুনামগঞ্জ। বৈশাখে বিস্তীর্ণ হাওরে বছরের একমাত্রRead More



Comments are Closed