সুনামগঞ্জে আ’লীগ ও ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: পিতা ও পরিবারের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এক তরুণ কতটা বেপরোয়া ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারে তারই আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাটের এক আওয়ামী ঘরানার পরিবার। পুত্রকে লেলিয়ে দিয়ে উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে কয়লা ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে শত শত লোকজনের সামনে অপহরণ করিয়ে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে শুক্রবার পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। আর এ ঘটনার মাধ্যমেই আ.লীগ নেতা তাহের মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন জানান দিলেন তাদের ববর্বরতা। অবশ্য এ ঘটনায় রাতেই আ’লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন পৈলনপুর গ্রামের মৃত জব্বর আলীর ছেলে রহমত আলী ওরফে রহমু মিয়া। এসময় পার্শ্ববর্তী কামড়াবন্দ গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে ১৪/১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রæপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারপিঠ করে প্রকাশ্যে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী কামড়াবন্দ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ওই ব্যবসায়ীকে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিঠিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সংঘটিত হয়ে ওই ব্যবসায়ীকে তাহের মিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গোটা বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও আশে পাশের কয়েকটি এলাকায় ক্ষোভ ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিঠিয়ে গুরুতর জখম করা ও বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ এনে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের মৃত জব্বর আলীর ছেলে ভিকটিমের সহোদর জয়ধর আলী বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামীরা হলো, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের মৃত হাজি ছমির উদ্দিন ওরফে নাহুদার ছেলে ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা আবু তাহের মিয়া, তার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কর্মী তোফাজ্জল হোসেন, মৃত নাজির মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া, তার ছেলে সুজন মিয়া, কালা মিয়ার ছেলে হাবিব মিয়া, দুলাল মিয়ার ছেলে মিলন মিয়া, মল্লিকপুর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে হানিফ মিয়া, মোল্লাপাড়া গ্রামের গোলাম আকবরের ছেলে মাজেদ মিয়া সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৫ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রহমত আলী জানান, তাহের মিয়ার সন্ত্রাসী ছেলে তার দলবল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আমার নিকট দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। শুক্রবার আমাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে দেড়লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার পরও আরো ৫০ হাজার টাকার জন্য কয়েক দফা মারপিট করে গাছের সাথে বেঁধে রাখে।
মামলার বাদী জয়ধর আলী বলেন, আমি রাতে থানায় এজাহার দিতে গেলে ওসি সাহেব চাঁদাদাবি ও টাকা ছিনতাই’র অভিযোগ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে এক রকম বাধ্য হয়েই পুন:রায় এজাহার লিখে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম ও বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ এনে আমাকে মামলা করতে হয়েছে। আমার ভাই শারিরীক ভাবে কিছুটা সুস্থ হলেই আদালতে চাঁদাদাবি ও দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে সম্পুরক এজাহার দাখিল করব।
স্থানীয় এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে পুলিশী নিরবতার কারণে ইতিপূর্বে তাহেরের সন্ত্রাসী ছেলে তার দলবল নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি চাকুরীজীবি ডা. আবদুস সালামকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে। প্রতিবেশী সাইদুল ইসলামকে বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধোর করে। বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক তার হাতে লাঞ্চিত ও হুমকির মুখে পড়েছেন। ওই বিদ্যালয়ে পড়–য়া এক কিশোরী তোফাজ্জলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ভৈরব চলে যেতে বাধ্য হয়। বিগত বছর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাদাঘাটে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করলে সে তার লোকজন নিয়ে মেলার স্থল গুড়িয়ে দেয়। উপজেলার বারহাল গ্রামের তারই নিকটাত্নীয় জহুর আলমও একবার শারিরীক ভাবে তার হাতে লাঞ্চিত হয়। তার হুমকির হাত থেকে বাদ পড়েনি বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এক এসএসআই। এছাড়াও বিগত কয়েক বছর ধরেই তোফাজ্জল এলাকায় তার নামে তোফাজ্জল গ্রæপ নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে তার পিতা তাহেরের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে এলাকার একাধিক মাধ্যমিক স্কুলে ও কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মারধর করে, যারা আদৌ কোন বিচার পায়নি।
এ ব্যাপারে তাহের মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদাদাবি ও টাকা ছিনতাই করে নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই অমৃত কুমার দেব শনিবার জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ শনিবার জানান, থানায় মামলা হয়েছে। তোফাজ্জল ও তার সহযোগীরা ইতিপুর্বেও বাদাঘাট এলাকায় একেরপর এক সংঘর্ষ, হামলা ও অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি করে জনমনে ভয় ও ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশী চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Related News
সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকেRead More
শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখRead More



Comments are Closed