বিশ্বনাথে বাসিয়া নদীকে পুস্প সম্মাননা
মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: “করেছি অনেক অবিচার, অনেক অপমান / ক্ষমা করে দাও হে নদী / আজ নাও আমাদের পুস্প সম্মান” বিশ্ব নদী দিবসকে সামনে রেখে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিয়া নদীকে পুষ্প সম্মাননা জানানো হয়েছে।
দখলে-দূষণে বিপন্ন বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা নদী বাসিয়া। যা নাব্যতা হারিয়ে মৃতপায়। নদীর দু-পাশে অবৈধ স্থাপনা নদীকে সংকোচন করেছে। প্রতি বছর দখলবাজরা নদী পাড়ে নতুন নতুন টং ঘর তৈরি করে। প্রশাসনের নিরবতায় একসময় বেড়া দিয়ে পাকা-আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি হতে থাকে।
শুক্রবার বেলা ১২ টায় বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে বাসিয়া সেতুতে আন্তর্জাতিক নদী বিষয়ক সংগঠন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও বেসরকারী সংগঠন অঙ্গিকার বাংলাদেশ যৌথভাবে বাসিয়া নদীতে ফুলের পাপড়ি ফেলে ‘নদীকে পুষ্প সম্মাননা’ জানায়।
‘বাসিয়া নদীকে পুস্প সম্মাননা’ জানানো শেষে বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ-এর আহবায়ক ফজল খান-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য নদীর মত বাসিয়া নদীও নাগরিকদের অপমান-অবিচারের শিকার। পানির বদলে নদীর বুক ভর্তি ময়লা-আবর্জনার স্তুপ । আবর্জনা ফেলার বিকল্প জায়গা না থাকায় নদীতেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। বাসাবাড়ি ও দু’পাড়ের ব্যবসায়ীদের ফেলা বর্জ্যে ভরে উঠছে নদী। সামান্য বৃষ্টিতে মনে হয় চলমান ডাস্টবিন। নদীতে আবর্জনা ফেলা নদীকে অপমান করা। নদী আমাদের অশেষ দান করে যাচ্ছে। তাই নদীর সাথে করা এমন অবিচারের জন্য নাগরিকদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতেই আজকের এ কর্মসূচী।
স্থানীয় নাগরিকদের বাসিয়া নদীরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে আব্দুল করিম কিম আরও বলেন, নদীতে ফুল দিয়ে অন্তর থেকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। এখন বাসিয়া নদীর দখল ও দূষণরোধে স্থানীয় মানুষকে সচেতন হতে হবে। নদী সুস্থ থাকলে নগর সুস্থ থাকবে, বাজার সুস্থ থাকবে, সামগ্রিক পরিবেশ সুস্থ থাকবে।
‘নদীকে পুষ্প সম্মাননা’ প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংবাদকর্মী প্রত্যূষ তালুকদার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেটের সংগঠক বদরুল ইসলাম চৌধুরী, বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ-এর যুগ্ম-আহবায়ক মাহবুব আলম এমরান ও শামসুল ইসলাম মুমিন, রাজা মিয়া, শাহজাহান প্রমুখ ।
উল্লেখ্য প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবারে ‘বিশ্ব নদী দিবস’ পালন করা হয়। নদী বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ১৯৮০ সাল থেকে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এই দিবস পালনের সুচনা করে। এরপর ২০০৫ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা দিবসটি পালন করা শুরু করে। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে থেকে রিভারাইন পিপল নামের একটি সংস্থা এ দিবস পালন করে আসছে। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ দিবসটি অনুসমর্থন করে। এ বছর বাংলাদেশে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারন করা হয়েছে ‘সুস্থ নদী, সুস্থ নগর’। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর রবিবার ‘বিশ্ব নদী দিবস’কে সামনে রেখে ‘অঙ্গিকার বাংলাদেশ’ দেশের একাধিক ‘নদীতে পুষ্প সম্মাননা’ কর্মসূচি পালন করে। এবছর সিলেটে সুরমা ও বাসিয়া নদীতে আয়োজিত কর্মসূচীতে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার সহ-আয়োজক হয় ।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed