Main Menu

সিলেটের লামাকাজিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২০

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : সিলেট অফিস: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিলো। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেলা দেড়টা থেকে যান চলাচল শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। দুই ঘন্টা পর যান চলাচল শুরু হয়েছে। উত্তেজিত জনতা সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুজাত আলী রফিকের ওপরও চড়াও হয়।
সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীর মধ্যস্থতায় দুপক্ষকে সমঝোতায় আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে লোকজন ব্রীজ অতিক্রম করে পূর্ব প্রান্তের লোকজনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বিশ্বনাথ থানার পুলিশ গুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এরপর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদসহ অন্যরা সেখানে গেলে লোকজন চেয়ারম্যানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তার দিকে তেড়ে আসে।
জানা যায়, সম্প্রতি লামাকাজিতে সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ফার্মেসীর সামনে বিশ্বনাথের এক ব্যক্তির গাড়ি পার্র্কিং নিয়ে বচসা হয়। এর জের ধরে সোমবার সকাল থেকে লামাকাজী ব্রীজের পূর্ব প্রান্তে সিলেট সদর উপজেলার কয়েকটি এবং পশ্চিম প্রান্তে বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লামাকাজিতে সৃষ্ট দুপক্ষের সংঘর্ষ ২৩৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এর মধ্যে দুইশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও শর্ট গানের গুলি এবং ৩৩ রাউন্ড টিয়ারশেল রয়েছে।
তিনি জানান, লামাকাজিতে উত্তেজনার খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকেই ব্রীজের পশ্চিম প্রান্তে লামাকাজি পয়েন্টে তারা অবস্থান নেন। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব প্রান্তের লোকজন ব্যারিকেড ভেঙ্গে পশ্চিম প্রান্তে আসার চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের ১৪/১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed