Main Menu

রাজনগরে বাঁধের ১৫ স্থানে ভাঙন, পাঁচ গ্রাম প্লাবিত

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মনু নদের বাঁধের অন্তত ১৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে মনু নদে পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়। তবে স্থানীয়ভাবে বাঁশ ও মাটি দিয়ে কয়েকটি ভাঙন ঠেকানো হয়েছে। এখনই ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে ফসল এবং নদের তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
এদিকে মনু নদের ভাঙন ঠেকানো গেলেও ধলাই ও লাঘাটা নদীর বাঁধ উপচে কামারচাক ইউনিয়নের হাওর করাইয়া, ইসলামপুর, জালালপুর, খাস প্রেমনগর ও নওয়াগাঁও গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
শুক্রবার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ধসে পড়েছে। বাঁধের মাটি ধসে বাঁধটি সরু হয়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে বাঁশ পুঁতে ও মাটি ফেলে বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এলাকার হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল ও কোনাগাঁও পর্যন্ত বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার পানি বেড়ে গেলে উজিরপুর এলাকার ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়। পরে ভাঙন ঠেকাতে টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান টিপু খান এসে স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করান।
উজিরপুর গ্রামের মছব্বির মিয়া শুক্রবার বলেন, ‘মাইকিং শুনে শত শত মানুষ ছুটে আসেন। অনেকেই দুই-চাইরটা করে বাঁশ দেন। সকাল ১১টা থাকি চাইরটা (চার) পর্যন্ত সবাই মিলে চেষ্টা করে ভাঙন ঠেকানো গেছে। না হইলে এখন এলাকার ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি, কোমর পানি থাকতো। দুই বছরে এই ভাঙনে অন্তত ১০-১২ কিয়ার (বিঘা) জাগা নিছে।’
একই গ্রামের (উজিরপুর) লেবু মিয়া বলেন, ‘গত কয়েক বছরে মনু নদে আমার ৩৬ কিয়ার জাগা গেছে। যখন বাঁশ লাগে, গাছ লাগে দিই। কিন্তু কোনো কাজ অর (হচ্ছে) না। ব্লক দেওয়া অইব শুনলাম। অফিসার আইন (আসেন)। ব্লকতো আর অয় (হচ্ছে) না।’
জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেছেন, টেংরা ইউনিয়নের হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল, একামধু, ভাঙারহাট, আদিনাবাদ, টগরপুর, কোনাগাঁও এবং কোনাগাঁও খাসে মনু নদের বাঁধে ভাঙন দিয়েছে।
টেংরা ইউপির চেয়ারম্যান টিপু খান বলেন, ‘আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনকে নিয়মিত এই ভাঙনের কথা জানিয়ে আসছি। কিন্তু পাউবো খুবই নিম্নমানের কাজ করায়। বছর বছর একই জায়গায় কিছু মাটি এনে ফেলে। পরে ওই মাটি পানিতে ভেসে যায়। ব্লক না হলে ভাঙন রোধ করা যাবে না।’
একইভাবে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নেও মনু নদের কয়েকটি স্থানে বাঁশ ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়েছে। ইউনিয়নের মনু নদের দস্তিদারের চক, ভোলানগর, চাটি কোনাগাঁও, খাস প্রেমনগর ও কালাইকোনা এলাকায় ভাঙন দিয়েছে।
উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের শ্বাসমহল গ্রামেও মনু নদের বাঁধ ধসে পড়ছে। মনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত শুক্রবার বলেন, ‘বেশ আগে থেকেই এখানে ভাঙন দিচ্ছে। এখন আরও বাড়ছে। বহুদিন ধরে সঠিকভাবে বাঁধ মেরামত হয়নি।’
পাউবোর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুর রব বলেন, ‘বেশ কয়েকটা জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজের জন্য টেন্ডার দেওয়া হবে।’

Share





Related News

Comments are Closed