কুরবানীর জরুরি মাসায়িল
এহসান বিন মুজাহির: কুরবানীর ওয়াজিব একটি বিধান। সামর্থবান ব্যক্তির উপর পশু কুরবানীর করা ওয়াজিব। কোরআন ও হাদিসে এর অপরিসীম ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। মাসয়ালা জেনে সঠিকভাবে কোরবানি করা জরুরি। নিন্মে কোরবানির মসয়ালা-মাসায়িল বর্ণনা করা হলো।
যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব:
১. ঈদুল আজহার দিন প্রয়োজনীয় খরচ ব্যতিত সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা কিংবা সম পরিমাণ সম্পদ যার কাছে থাকবে তার উপর কুরবানি ওয়াজিব। কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ মাল পূর্ণ এক বছর থাকা জরুরি নয়, কুরবানির শেষ দিন সূর্যাস্তের পূর্বেও কেউ যদি নেসাব পরিমাণের মালিক হয় তাহলে তার উপরও কুরবানি ওয়াজিব।
২. জীবিকা নির্বাহের জন্য যে পরিমাণ জমি ও ফসলের দরকার তা থেকে অতিরিক্ত জমি ও ফসলের মুল্য অথবা যে কোন একটির মুল্য নেসাব পরিমাণ হলেও কুরবানি ওয়াজিব।
৩. একই পরিবারের সকল সদস্য পৃথক পৃথকভাবে নেসাবের মালিক হলে সকলের উপর আলাদাভাবে কুরবানি ওয়াজিব ৪. কোন উদ্দেশ্যে কুরবানির মান্নত করলে সে উদ্দেশে পূর্ণ হলেও কুরবানি করা ওয়াজিব। অতএব প্রত্যেক স্বাধীন, ধনী, প্রাপ্তবয়স্ক ,স্স্থু মস্তিষ্ক নর-নারীর উপর কুরবানি ওয়াজিব।
কোরবানির পশু ও তার বয়স:
ইসলামী শরীয়তে গরু-মহিষ,ভেড়া ,ছাগল,দুম্বা,উট করবানী করাকে বৈধতা দান করেছে। তবে ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করা চলবে কিন্তু গরু, মহিষ, উট সাত ব্যক্তি শরীক হতে পারবে। শর্ত একটাই শরীকদার সকলের নিয়ত বিশুদ্ব থাকতে হবে। এদের মধ্যে একজনের ও যদি লোক দেখানো বা গোশত খাওয়া উদ্দেশ্য হয় তাহলে কারো কুরবানি কবুল হবে না।
ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, এক বছর বয়সী হওয়া আবশ্যক। তবে যদি যদি ছয় মাসের দুম্বা এবং ভেড়া এরূপ মোটা তাজা হয় যে, দেখতে এক বছরের মত মনে হয় তাহলে ওই ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানি করা যাবে। আর ছাগল যত বড়ই হোকনা কেন এক বছর পরিপূর্ণ হওয়া জরুরী, একদিন কম হলেও কুরবানি জায়েজ হবে না। গাভী, মহিষ দু’বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি। উট পাঁচ বছরের হওয়া জরুরি, একদিন কম হলেও কুরবানি হবে না। কুরবানির জন্য মোটা, তরতাজা,সুস্থ পশু হওয়া জরুরি। আতুর, লেংড়া, কানা, কানকাটা, লেজকাটা, দুর্বল পশু দিয়ে কুরবানি বিশুদ্ব হবে না।
কোরবানির দিন:
তিন দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কুরবানির দিন হল দশ, এগারো ও বারো জিলহজ্ব। এ তিন দিনের মধ্যে যেকোন দিন কুরবানি করা জায়েজ আছে। তবে উত্তম দিন হচ্ছে প্রথম দিন অর্থাৎ দশ জিলহজ্ব। কোন কারন ছাড়া বিলম্ব না করা ভাল।
কোরবানির সময়:
জিলহজ্বের দশম দিন ঈদের নামাজ পড়ার পর থেকে জিলহজ্বের বার তাবিখ সূর্যাস্তের পুর্ব পর্যন্ত কুরবানি করা যাবে। তবে ঈদের নামাজের পূর্বে কুরবানি করা যাবে না। ঈদের নামাজ পড়ে এসে কুরবানি করতে হবে। যদি শহরের একাদিক স্থানে ঈদের নামায হয় তাহলে যেকোন এক স্থানে নামাজ আদায় হয়ে গেলে সব স্থানেই কুরবানি করা জায়েজ হবে।
জবেহ:
কোরবানি দাতা সে নিজেও জবেহ করতে পারবে এবং কোন আলেম তথা জানলেওয়ালা কাউকে দিয়ে কুরবানি করাতে পারবে। তবে উত্তম হচ্ছে নিজের কুরবানি নিজে করা। মুখ দিয়ে উচ্চারন করে নিয়ত করা জরুরি নয় বরং অন্তরের নিয়তই যতেষ্ট। জবেহ করার সময় অবশ্য অলাহর নাম নিতে হবে।
কোরবানির গোশত:
কোরবানির গোশত নিজে খাবে এবং গরিব-মিসকিনগণকে খওয়াাবে। উত্তম পন্থা হচ্ছে গোশতকে তিনভাগে ভাগ করা, একভাগ গরিব-মিসকিনকে দান করা। একভাগ আত্মীয়স্বজনকে দেয়া এবং এক অংশ নিজ পরিবারের জন্য রাখা।
পশুর চামড়া:
কোরবানির পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারবে এবং অন্যকে হাদিয়াও দিতে পারবে। আবার মাদরাসার লিলাহ ফান্ডেও দান করা যাবে। কিন্তু কুরবানির চামড়া বিক্রি করে কোন মাদরাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমামের ভাতা দেয়া যাবে না। বিক্রি করলে চামড়ার টাকা একমাত্র গরিব-মিসকিনকেই দান করতে হবে। সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে মাদরাসার গরিব ফান্ডে দান করা।
লেখক: সাংবাদিক ও আলেম।
Related News
দুরুদ শরীফ: অন্তরের প্রশান্তির সুখ
আতিকুর রহমান নগরী: মানুষের জীবনে আত্মিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকেRead More
ইসলামে সদকা বা দান-সদকার ফজিলত অপরিসীম
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, ইসলামে সদকা বাRead More



Comments are Closed