তালাকের তিনমাস পর স্বামী স্বীকারে মামলা, চাঞ্চল্য
বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটে মোহরানা খোরপুষ ও তালাক বুঝে নেয়ার তিনমাস পর স্বামী স্বীকারে মামলা করেছেন এক নারী। সিলেটের বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ১ সেপ্টেম্বর এ মামলা করেন বিশ্বানাথ উপজেলার হরিকলস গ্রামের মো. নূর আলীর মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা হাফিজা বেগম নার্গিস। ৯ বছর বয়েসী সন্তানের জননী হাফিজা মামলায় নিজেকে ২৫ বছর বয়সী বলেও উলেখ করেছেন। কাজী অফিসের মাধ্যমে সরকারীভাবে তালাক নিয়েও পরিত্যক্তা স্ত্রী তালাকদাতাকে স্বামী স্বীকারে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা করতে পারে এমন তথ্যে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ১০ বছর পূর্বে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মো. নূর আলীর মেয়ে হাফিজা বেগম নার্গিসকে বিয়ে করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ইসলামনগর বলদি গ্রামের মরহুম সুনাহর আলীর পুত্র মো. মইন উদ্দিন। বিয়ের এক বছরের মাথায় তাদের ঘরে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে ওই সন্তানের বয়স প্রায় ৯ বছর। বনিবনা না হওয়ায় আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৮বছর আগে পিতার বাড়িতে চলে যান হাফিজা। এর পর ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল স্ত্রীর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান স্বামী মো. মইন উদ্দিন। পরে সালিশের মাধ্যমে হাফিজার মোহরানা ও পুত্র সন্তানের খোরপুষ বাবদ ৭ লাখ টাকা নির্ধারন করা হয়। স্বামী মো. মইন উদ্দিন ২০১৪ সালের ৯ ফেব্রয়ারী পর্যন্ত কয়েক কিস্তে স্ত্রীর মোহারানা ও খোরপুষের ৭ লাখ টাকা পরিশোধও করেন। ন্যাশনাল ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখায় থাকা নার্গিসের ০০০৭০৩৪০৩০০০১ নং একাউন্টের মাধ্যমে মোহরানার এ টাকা পরিশোধ করেন মইন উদ্দিন। হাফিজা বেগম নার্গিস ব্যাংকের মাধ্যমে মোহরানা ও খোরপুষের ওই টাকা গ্রহণও করেন। এর পর এ বছরের ৫ জুন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের এম এম আর অফিসে তাদের মধ্যকার তালাকনামা রেজিষ্ট্রি ও কার্যকর করা হয়। মোহরানা-খোরপুষ পরিশোধ ও তালাকনামা রেজিষ্ট্রির প্রায় তিনমাস পর নার্গিস নিজেকে মইন উদ্দিনের স্ত্রী স্বীকার করে তার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে মারপিটের অভিযোগ আনেন। এ অভিযোগে হাফিজা বেগম নার্গিস গত ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি দরখাস্ত মামলা করেন। ট্রাইব্যুনালে মামলাটি নারী ও শিশু মামলা নং ৪৫৮/১৬ হিসাবে নিবন্ধিত হয় এবং এজাহারগন্যে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বিশ্বনাথ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
মোহরানা পরিশোধপূর্বক তালাক ও পরে মামলা দায়ের বিষয়ে হাফিজা বেগম নার্গিসের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না মুরব্বিয়ান ও মামলার সাক্ষীরা তা বলতে পারবেন বলে জানান।
অপরদিকে পরিত্যক্ত স্বামী মো. মইন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে হাফিজা তার সংসার থেকে পৃথক রয়েছেন। সালিশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোহরানা ও খোরপুষ বাবদ ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করে তালাকও নিয়েছেন । তিনি জানান, দীর্ঘপ্রায় ৮ বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর গত ৫জুন তালাকনামা রেজিষ্ট্রি করা হয়। তালাক রেজিষ্ট্রি হওয়ার প্রায় তিনমাস পর ২৯ আগস্ট যৌতুক দাবি ও মারপিটের ঘটনা উলেখে তার বিরুদ্ধে কিভাবে মামলা হতে পার্ েএ নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে অহেতুক এ মামলা করা হযেছে। আইন ও যুক্তিতে এ মামলার কোন ভিত্তি নেই বলে জানান তিনি।
Related News
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিRead More
১০ অক্টোবর থেকে সিলেটে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট অঞ্চলে প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাণিজ্য মেলা। আগামীRead More



Comments are Closed